জামিনের পর রাতেই কারামুক্ত সুরভী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাজীপুর
প্রকাশিত: ০৮:৩০ পিএম, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬
রাতে তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। ছবি-সংগৃহীত

গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় করা চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার জুলাই যোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত ৭টা ৩৮ মিনিটে তিনি গাজীপুর জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান।

এর আগে দুপুরে তাকে দুদিনের রিমান্ড দিলেও সন্ধ্যায় অন্য একটি আদালত চার সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।

গাজীপুর জেলা কারাগারের জেলার সর্বোত্তম দেওয়ান কারামুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মুক্তিলাভের সময় কারা ফটকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দুপুরে জুলাই যোদ্ধা তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে গাজীপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক সৈয়দ ফজলুল মাহদীর আদালতে তোলা হয়। শুনানি শেষে দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এসময় আদালত চত্বরে জুলাই যোদ্ধারা এ আদেশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

বিকেলে সুরভীর পক্ষে তার আইনজীবী এ রিমান্ড আদেশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর আদালতে রিভিশন আবেদন করেন। সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালতের বিচারক ও ভারপ্রাপ্ত জেলা জজ অমিত কুমার দে সুরভীর রিমান্ড বাতিল করে চার সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।

আরও পড়ুন

জামিন পেলেন ‘জুলাই যোদ্ধা’ সুরভী

মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি নাজমুল হক চৌধুরী বিপ্লব বলেন, ‘যে সাংবাদিক মামলাটি করেছিলেন তিনি আদালতে কোনো প্রকার যোগাযোগ করেননি। কোনো প্রকার তথ্য দেননি। বিষয়টি আদালতকে অবহিত করা হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং আদালত চত্বরে অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছিল তা আদালতকে অবহিত করি। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আদালত আসামির জামিন মঞ্জুর করেন।’

এদিকে সুরভীর রিমান্ডের প্রতিবাদে এবং তার মুক্তির দাবিতে দিনভর বিক্ষোভ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা।

সন্ধ্যায় আইনজীবী সমিতির সামনে এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও গাজীপুর-২ আসনের এনসিপির প্রার্থী আলী নাছের খান বলেন, ‘আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। দেশের আইন প্রশাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু আপনারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রশ্নে নমনীয় ভূমিকা পালন করবেন না। হাসিনার পতন ঘটেছে এই ছাত্র-জনতার কারণেই। আজ যারা বড় বড় পদে বসে আছেন এবং মুক্তভাবে রাজনীতি ও বক্তৃতা করছেন, তখন আপনারা লেজ গুটিয়ে পালিয়েছেন। ছাত্র-জনতা পল্টন থেকে লেজ গুটিয়ে পালায়নি। তারা জুলাইয়ে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছেন। এই তাহরিমা জান্নাত সুরভীরাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ধর্ষণসহ নানা হুমকি উপেক্ষা করে মাঠে ছিলেন।’

মামলার বিবরণে যা বলা হয়েছে

গত ২৬ নভেম্বর কালিয়াকৈর থানায় করা মামলায় বাদী নাইমুর রহমান দুর্জয় উল্লেখ করেন, তাহরিমা জান্নাত সুরভী আগে থেকেই বিভিন্ন সময় সংবাদ প্রচার করার জন্য বিভিন্ন তথ্য তাকে দিয়ে সহায়তা করতেন। সেই সুবাদে তিনি পূর্ব পরিচিত। সে মোতাবেক গত ১৮ নভেম্বর বেলা ১১টার দিকে গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সংবাদ প্রচার করার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে বলে তাকে জানান এবং তাকে গাজীপুর চৌরাস্তায় আসতে বলেন।

তার কথা মোতাবেক ওইদিন দুপুর দেড়টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় এলে সুরভী সেখান থেকে তার মোটরসাইকেলের পেছনে ওঠেন। পরে তাকে নিয়ে গাজীপুরে চৌরাস্তার উদ্দেশে রওয়ানা দেন। তিনি ভোগড়া বাইপাস পৌঁছালে সুরভী তাকে টাঙ্গাইলের দিকে যেতে বলেন। ওইদিন দুপুর সোয়া ২টার দিকে কালিয়াকৈর থানার সফিপুর বাজারের পাশে মৌচাক ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন গাজীপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাম পাশে তাকে মোটরসাইকেল থামাতে বলা হয়।

সেখানে ওত পেতে থাকা আরও তিনজন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে জোরপূর্বক নাইমুর রহমানের মোটরসাইকেলের চাবি, মোটরসাইকেল এবং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট নিয়ে নেন। তারা তাকে এলোপাথাড়ি মারধর করেন ও ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে একটি বাসায় নিয়ে হাত-পা বেঁধে আবারও এলোপাথাড়ি মারধর করেন। তারা তাকে মৃত্যুর ভয়ভীতি দেখিয়ে বাবা-মাসহ আত্মীয়-স্বজনদের ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা এনে দিতে বলেন। তা নাহলে তাকে খুন করে মরদেহ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়।

একপর্যায়ে তারা নাইমুর রহমানের বিকাশ পারসোনাল নম্বরের পিন নম্বর নিয়ে নেন। হামলাকারীরা তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের ফোন করে তার বিকাশ নম্বরে টাকা এনে দিতে বলেন। এসময় তার প্রবাসী বন্ধু ও আত্মীয়-স্বজনরা ৪৫ হাজার ২০০ টাকা পাঠান। সেখান থেকে ৪৪ হাজার ৭০০ টাকা তুলে নেন আসামিরা। এসময় তার সঙ্গে থাকা নগদ চার হাজার ৫৭০ টাকা নিয়ে নেওয়া হয়।

মামলায় জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় ও ১৯ নভেম্বর দুপুর ২টার দিকে বাদীকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

মো. আমিনুল ইসলাম/এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।