সিরাজগঞ্জে তীব্র শীতে কদর বেড়েছে গরম কাপড়ের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৩:৪১ পিএম, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬

সিরাজগঞ্জে ঘন কুয়াশা ও হাড় কাঁপানো শীতে বেড়েছে পুরোনো গরম কাপড়ের কদর। এতে শহরের হর্কাস মার্কেট ও পুরোনো কাপড়ের ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে জমে উঠেছে বেচাকেনা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সিরাজগঞ্জ পৌর হর্কাস মার্কেট ও ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে ক্রেতারা তাদের চাহিদা অনুযায়ী নিজে যাচাই-বাছাই করে কিনে নিচ্ছেন গরম পোশাক। এসব দোকানে তরুণ ক্রেতা বেশি। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভিড় করছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

ক্রেতারা জানান, শীতের শুরুতে কেনা পোশাক তীব্র শীতে কোনো কাজে লাগছে না। তাই তারা আবার গরম কাপড় কিনতে ছুটছেন। এ সুযোগে বিক্রেতারাও দাম হাঁকাচ্ছেন দ্বিগুন। দু-তিন সপ্তাহ আগেও যে পোশাক ১৫০-২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন তার দাম বেড়ে হয়েছে ৩০০-৩৫০ টাকা।

সিরাজগঞ্জ পৌর হকার্স মার্কেটের গরম কাপড়ের ক্রেতা আব্দুস সালাম। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ছেলে-মেয়ের জন্য শীতের জামা কিনতে এসেছি। তবে শীত বেশি হওয়ায় দাম একটু বেশি। ১৫ দিন আগে যে পোশাক ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আজ তার দাম ৬০০ টাকা হাঁকাচ্ছেন। পরে দামাদামি করে ৪৫০ টাকায় নিয়েছি।

শীতবস্ত্র কিনতে আসা রিকশাচালক সোলাইমান হোসেন বলেন, শপিং মলে গেলে গরম কাপড়ের দাম কমপক্ষে দুই থেকে তিন হাজার টাকা লাগে। আর হর্কাস মার্কেট থেকে ৩০০ টাকায় বিদেশি পোশাক পাওয়া যায়। তাই তিনি এক হাজার টাকায় তার পরিবারের দুই সন্তান ও স্ত্রীর জন্য গরম পোশাক ক্রয় করেছেন।

বিক্রেতা সাহেব আলী জাগো নিউজকে বলেন, শীত এলেই পুরোনো গরম কাপড়ের কদর বাড়ে। এবার গতবারের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি, তবে তা মানুষের ক্রয়-ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সব বয়সী মানুষের শীতের পোশাক সোয়েটার ও জ্যাকেট আমরা বিক্রি করি। অপেক্ষাকৃত কম দামে একটি জ্যাকেট বা সোয়েটার ক্রেতার হাতে তুলে দিতে পারলে আমাদেরও ভালো লাগে। তাছাড়া ক্রেতার শরীরে পোশাক যখন মানানসই হয়, তখন ক্রেতার মুখের হাসিই আমাদের মনে প্রশান্তি এনে দেয়।

আরেক বিক্রেতা আমিরুল ইসলাম বলেন, বেশি বিক্রি হয় তরুণদের জ্যাকেট। যেসব নতুন জ্যাকেট বাজারে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হয়, সেই একই পুরোনো পোশাক আমরা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি করি। এ জন্য আমাদের তরুণ ক্রেতা বেশি। এসব পোশাক তারা চট্টগ্রাম থেকে কিনে আনেন। যা তাইওয়ান, কোরিয়া ও জাপান থেকে এ দেশে আসে বলে তিনি জানান।

সিরাজগঞ্জ পৌর হর্কাস মার্কেট মালিক সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, এই সমিতির আওতায় ১৫০ জন সদস্য রয়েছে। তারা প্রত্যেকেই পুরোনো পোশাক বিক্রির সঙ্গে জড়িত। এবার পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকার পুরোনো কাপড় বিক্রি হবে তাদের আশা।

এদিকে সিরাজগঞ্জ বাঘাবাড়ি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, সিরাজগঞ্জে ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিমেল হাওয়াও বইছে, যে কারণে শীতের তীব্রতা বেশি।

এম এ মালেক/এনএইচআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।