ঘাটে বাঁধা সারি সারি নৌকা, জেলেদের ধূসর স্বপ্ন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মানিকগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৫:২১ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০২৬

সূর্যের আলো ধীরে ধীরে পশ্চিম আকাশে মিলিয়ে যায়। নদীর ঘাটে তখন সারি সারি নৌকা বাঁধা, বাতাসে দুলছে ভেজা জাল। দূর থেকে দৃশ্যটি শান্ত ও সুন্দর মনে হলেও এর আড়ালে লুকিয়ে আছে জেলেদের ধূসর স্বপ্ন, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর বেঁচে থাকার নিরন্তর সংগ্রামের গল্প।

প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার আগে নদীতে নামেন জেলেরা। কিন্তু আগের মতো আর মাছ নেই নদীতে। দিনভর জাল ফেলেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হয় তীরে।

প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার আগে নদীতে নামেন জেলেরা। কিন্তু আগের মতো আর মাছ নেই নদীতে। দিনভর জাল ফেলেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হয় তীরে। এতে দিন দিন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে তাদের জীবন-জীবিকা।

জামালপুর জেলা থেকে এসে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা নদীতে মাছ শিকার করেন ১৫ বছর ধরে। সঙ্গে নিয়ে আসেন ছোট একটি নৌকা। সেই নৌকাতে কাটান বছরের আট মাস। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ বছর অনেক ঠাণ্ডা পড়তেছে। আমাদের অনেক কষ্ট হয়। এই ঠান্ডার কারণে নদীতে মাছ ধরবার যাইতবার পারি না। অষ্টমদিন চলে একটি মাছও জালে ধরা পড়ে নাই। পরিবার নিয়ে আমাদের বেঁচে থাকা কষ্টকর।’

ঘাটে বাঁধা সারি সারি নৌকা, জেলেদের ধূসর স্বপ্ন

বিল্লাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, নদীতে ভেসেই জীবনের অর্ধেক সময় কাটিয়ে দিয়েছি সেই ছোট বেলায় বাবার সঙ্গে এ পদ্মা নদীতে এসেছিলাম এখন তো ৩২ বছর চলে। আমরা রাত ৩টার দিকে নদীতে যাই জাল ফেলি যদি মাছ ধরা পরে ১২ টা পর্যন্তও থাকি। এ নৌকাতে আমরা স্বপ্ন সাজাই এ নৌকাতে জীবন কাটাই।

ইকবাল হোসেন এ পদ্মা নদীতে কাটিয়ে দিয়েছেন ৪০ বছর। এখন তার বয়স ৫৫ বছর। তবুও জীবনের তাগিদে জামালপুর জেলা থেকে মানিকগঞ্জের পদ্মা নদীতে মাছ শিকার করতে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ। দিন যায় না নদীতে মাছ নাই। যহন মাছ পাই তহন দিন ভালো যায়। এহন তো মাঝে মাঝে ঋণ করে বাড়ি ফিরতে হয়। আমাদের বেঁচে থাকাই এখন কষ্টকর।’

নদীর বুকে ভাসমান এ মানুষগুলোর জীবন আজ অনিশ্চয়তার মুখে। মাছের সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর জীবিকার অনিশ্চয়তা। সব মিলিয়ে জেলেদের স্বপ্নগুলো দিন দিন আরও ধূসর হয়ে উঠছে।

মো. সজল আলী/আরএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।