ঋণের টাকায় ইজিবাইক কিনে পরিশোধের আগেই সড়কে শেষ সাগরের স্বপ্ন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মাদারীপুর
প্রকাশিত: ১১:১৬ এএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

ঋণ করে একটি ইজিবাইক কিনেছিলেন সাগর বেপারী। সেই ঋণের টাকাও এখনো শোধ করা হয়নি। এরই মাঝে সড়কে প্রাণ হারালেন। ছোট দুই ছেলেকে নিয়ে দিশাহারা সাগর বেপারীর স্ত্রী মাহফুজা বেগম (২২)।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটকচরে নিহত হন তিনি। ওই ঘটনায় সাগরসহ সাতজনের প্রাণ গেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের জসিম বেপারীর ছেলে ইজিবাইকচালক সাগর বেপারী। তিনি একই উপজেলার ঘটকচর এলাকার গুচ্ছগ্রামে দুই ছেলে আব্দুল্লাহ (৭) ও ইউসুফ (৩) এবং স্ত্রী মাহফুজাকে নিয়ে থাকতেন।

খোঁজ নিয়ে ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জীবন জীবিকার জন্য প্রথমে সাগর ভ্যান চালাতেন। প্রায় তিন বছর ভ্যান চালিয়েছেন। বর্তমানে ভ্যানে যাত্রীরা বেশি উঠতে চান না। তাই একটি এনজিও থেকে কিস্তির মাধ্যমে ঋণ নেন। সেই টাকা দিয়ে একটি ইজিবাইক কেনেন। স্বপ্ন দেখেন ইজিবাইক চালিয়ে সংসারের সব খরচ জোগাড় করবেন। একটু ভালো থাকবেন। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ঋণের টাকাও পরিশোধ হয়নি। আর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ দিতে হলো সাগর বেপারীকে। দুমড়ে মুচড়ে গেছে তার ইজিবাইকটিও।

আরও পড়ুন-
মাদারীপুরে বাস দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৭

নিহতের বাবা জসিম বেপারী বলেন, আমার ছেলে কিস্তির মাধ্যমে প্রায় দেড় লাখ টাকা দিয়ে ইজিবাইক কিনেছিল। সেই টাকাও এখনো পরিশোধ হয়নি। আমার ছেলে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। এখন আমাদের কী হবে? এত অল্প বয়সে ছেলে এভাবে মারা যাবে, তা কখনো ভাবিনি।

সাগরের স্ত্রী মাহফুজা বেগম বলেন, আমার স্বামী অনেক ভালো মানুষ ছিল। এলাকায় মানুষ তাকে খুব ভালোবাসতো। সংসারের সবাইকে ভালো রাখার জন্য কিস্তির মাধ্যমে একটি ইজিবাইক কিনেছিল। কিস্তির সব টাকাও এখনো শোধ হয়নি। আমার ছোট ছোট দুটি ছেলে আছে। ওরা এতিম হয়ে গেলো। এখন আমি কী করবো, কীভাবে সংসার চালাবো। কীভাবে কিস্তির টাকা দিবো। আর কীভাবে এই ছোট দুই ছেলেকে মানুষ করবো। আল্লাহ কেন আমাদের সঙ্গে এমন করলেন?

আয়শা সিদ্দিকা আকাশী/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।