সালাহউদ্দিনের বাড়িতে শোকের ছায়া


প্রকাশিত: ০৪:১১ পিএম, ০২ জুলাই ২০১৬

গোপালগঞ্জ শহরের ব্যাংকপাড়ার বাড়িতে শোকে স্তদ্ধ হয়ে পড়েছে ওসি সালাহ্উদ্দিন খানের স্বজনরা। বন্ধু-বান্ধব ও সপাঠিদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

শুক্রবার রাতে তার নিহত হওয়ার খবর জানার পর এ শোকের ছায়া নেমে আসে। সবাইকে হতবাক করে দেয় এই একটি দুঃসংবাদ।

ওসি সালাউদ্দিনের শৈশব কেটেছে গোপালগঞ্জ শহরের ব্যাংকপাড়ায়। শহরের সহপাঠি ও বন্ধুবান্ধবের মধ্যে লুই নামে সমাধিক পরিচিত ছিলেন তিনি। তার বাবা আব্দুল মান্নান খান ছিলেন একজন শিক্ষক। গোপালগঞ্জ এসএম মডেল গভঃ হাই স্কুলে তিনি শিক্ষকতা করতেন।
সালাউদ্দিনরা ৭ ভাই ও ৩ বোন। সালাহউদ্দিনের অবস্থান ছিল তৃতীয়। এর আগে তার দুই ভাই মারা গেছেন। বাবা-মাও এখন বেঁচে নেই।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শৈশবে গোপালগঞ্জ শহরের এসএম মডেল গভঃ হাই স্কুলে তার লেখা পড়া শুরু। বরাবরই একজন মেধাবী ছাত্র হিসেবে স্কুলে তার খুব সুনাম ছিল। ওই স্কুল থেকেই ১৯৮৩ সালে স্টার নম্বর পেয়ে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ছাত্রজীবনে তার নম্র ও বিনয়ী ব্যবহার সকলকে মুগ্ধ করতো।

খেলার মাঠেও সরব থাকতেন সালাহউদ্দিন। কখনও পাড়ার ক্লাব, আবার কখনও কলেজ টিমে ক্রিকেট খেলতেন। পরে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি ও পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।

শহরের ব্যাংকপাড়ারা বাসিন্দা কে এ জুয়েল (৫০) জানান, গোপালগঞ্জের মানুষের প্রতি সালাহউদ্দিনের ছিল অন্যতম ভালবাসা। ধনী, গরীব, পরিচিত বা অপরিচিত কেউ ঢাকায় গিয়ে কোনো সমস্যার কথা বললে তিনি তা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন এবং তা সমাধানের উদ্যোগ নিতেন। এছাড়া কারো কাছে বাড়িতে ফেরার টাকা না থাকলে তিনি তা দিয়ে দিতেন। ঢাকায় তিনি গোপালগঞ্জের মানুষের একজন অভিভাবক ছিলেন।
 
সালাহউদ্দিনের ছোট ভাই মোহাম্মদ আলী খান বলেন, আমার বাবা-মা বেঁচে নেই। ব্যাংকপাড়ার বাসায় আমার বড় ভাই ও আমি সন্তান সন্ততি নিয়ে থাকি। একজন বাবা আমাদের জন্য যা করতে পারেননি-আমার ভাই আমাদের জন্য অনেক করেছেন। একজন বাবার ভূমিকা পালন করেছেন।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি বিদেশি নাগরিকদের উদ্ধার করতে গেলে গুলিতে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন খান নিহত হন।

এমএএস/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।