পলাতক ডিআইজি এহসানউল্লাহর বিষয়ে আজও ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ
রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে কর্মরত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) একেএম এহসানউল্লাহ দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্বে অনুপস্থিত। কিন্তু তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো শৃঙ্খলামূলক বা আইনি ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। যদিও পুলিশ সদর দপ্তর থেকে গত বছরের নভেম্বরে কর্মস্থলে যোগদান না করে অনুপস্থিত থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়েছিল।
পুলিশ একাডেমির পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও লজিস্টিকস) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘তারা ডিআইজি এহসানউল্লাহর বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়েছেন, সেখানে তারা উল্লেখ করেছেন যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ২৯ অক্টোবরের পর থেকে অনুপস্থিত রয়েছেন।’
তিনি বলেন, তারা তাদের প্রতিবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠিয়েছেন। এখন ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার। এছাড়াও ডিআইজি এহসানউল্লাহ কীভাবে বা কখন একাডেমি ত্যাগ করেছেন, সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই বলেও জানান তিনি।
পুলিশ একাডেমির কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা এহসানউল্লাহ একাডেমির প্রশাসন ও লজিস্টিকস শাখার দায়িত্বে ছিলেন। বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের মধ্যে গত ২৯ অক্টোবর থেকে তিনি একটানা অনুপস্থিত রয়েছেন। যদিও আত্মগোপনে থেকে পরে তিনি ডাকযোগে ছুটির আবেদন পাঠিয়েছিলেন। তবে একাডেমি কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করেনি।
একেএম এহসানউল্লাহ পূর্বে বরিশালে পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর তদন্ত বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলছে।
একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, ২৯ অক্টোবর সকালে ডিআইজি এহসানউল্লাহকে আটক করতে একটি দল একাডেমিতে আসে। তবে তিনি আগেভাগেই অভিযানের খবর পেয়ে পুলিশ দল পৌঁছানোর আগেই আত্মগোপনে যান। দেশের অন্যতম সুরক্ষিত পুলিশ স্থাপনা থেকে তার এই নিখোঁজ হওয়া পুলিশ বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি থেকে কীভাবে একাধিক কর্মকর্তা পালিয়ে গেলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রোববার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। এখান থেকে কয়েকজন কর্মকর্তা পালিয়ে গেছেন, তা আমি অস্বীকার করছি না। তাদের ধরে এনে আইনের আওতায় যত তাড়াতাড়ি আনা যায় এই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এফএ/জেআইএম