রাজশাহীর বাজারে কাঁচামরিচের ঝাঁজ, পেঁয়াজের দামে স্বস্তি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজশাহী
প্রকাশিত: ১২:০৭ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০২৬

রাজশাহীর কাঁচাবাজারে কাঁচামরিচ ও শীতকালীন সবজির দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। তবে পেঁয়াজ, মুরগি ও ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজশাহী শহরের সাহেব বাজারসহ কয়েকটি প্রধান বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নতুন পেঁয়াজ কেজিতে ৫ টাকা কমে বর্তমানে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে বেগুনের দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৬০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া করল্লার দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা হয়েছে। শিম বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪০ টাকায়। দাম বেড়ে বাজারে প্রতি কেজি ডায়মন্ড আলু ২০-২৫ টাকা, লাল ও হল্যান্ড আলু ২৫-৩০ টাকা ও নতুন আলু ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া টমেটো ৬০-৭০ টাকা, ফুলকপি ৪০-৫০ টাকা এবং মুলা ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ বাড়ায় শাকের আঁটিও মিলছে ১০-২০ টাকার মধ্যে।

রাজশাহীর বাজারে কাঁচামরিচের ঝাঁজ, পেঁয়াজের দামে স্বস্তি

এদিকে মাংসের বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। কেজিতে ৫ টাকা কমে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ টাকায় ও সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজি দরে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকায়। ডিমের দামও কমেছে। ডজনে ১৮ টাকা কমে বর্তমানে ৯৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চালের বাজারে আবার চাপ বেড়েছে। মানভেদে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

চালের বাজারে সরু চাল ৮২-৮৭ টাকা ও মোটা চাল ৬২-৬৭ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে সরিষার তেলের দাম লিটারে ২০০ টাকায় পৌঁছেছে এবং প্যাকেটজাত সয়াবিন তেল ১৮০-১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিনি ও ডালের দাম আগের মতোই চড়া রয়েছে।

বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিলে পণ্যের দাম বাড়ে। অন্যদিকে ক্রেতারা মনে করছেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের নিয়মিত নজরদারি ও তদারকি প্রয়োজন।

রাজশাহীর বাজারে কাঁচামরিচের ঝাঁজ, পেঁয়াজের দামে স্বস্তি

সাহেব বাজারের কাঁচামরিচ বিক্রেতা আবদুল মালেক বলেন, শীতের কারণে ক্ষেত থেকে কাঁচামরিচ উঠছে কম। সরবরাহ কম থাকায় দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। সামনে সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমতে পারে।

সবজি বিক্রেতা মুনিরুল ইসলাম জানান, এই সময় শীতকালীন সবজির চাহিদা বেশি থাকে। কিন্তু কয়েকদিন ধরে বাজারে আসা কম, তাই দাম একটু বাড়তি।

অন্যদিকে ক্রেতারা বাড়তি দামে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। গৃহিণী রেহানা বেগম বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এমনিতেই বেশি। কাঁচামরিচ ১২০ টাকা হলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়।

আরেক ক্রেতা শাহিন আলম বলেন, চালের দামও আবার বাড়ছে। বাজার ঠিক রাখতে হলে সরকারের নিয়মিত নজরদারি দরকার।

সাখাওয়াত হোসেন/এমএন/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।