গোলাম পরওয়ার
বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি হাসিনার ১০ টাকার চালের মতো
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিএনপি এখন বলে ফ্যামিলি কার্ড দিবে। এটা ভুয়া, ভুয়া। ভুয়া বলারও তো একটা লিমিট আছে। দেশে মানুষ আছে ১৮ কোটি অথচ তারা নাকি ৫০ কোটি কার্ড দেবেন। ভুলে গেলে চলবে না ইতঃপূর্বে আপনারাই একবার ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিলেন বেকার ভাতা দেবেন। সেই ভাতার রেজাল্ট কোথায়? মূলত আপনাদের এই আশ্বাস হচ্ছে, শেখ হাসিনার ১০টাকার চাল খাওয়ানোর মতো আশ্বাস।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল মোড়স্থ ট্রাকস্ট্যান্ড মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বিএনপির নতুন সভাপতি তারেক রহমান এক বক্তৃতায় বলেছেন, জামায়াতও আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তখন আমরা কেন পদত্যাগ করেনি? তারেক রহমানের ওই বক্তব্যের জবাবে আমাদের আমির বলেছেন, ওই সময় দুর্নীতির সাগরের মধ্যে জামায়াত যে সৎ থাকতে পারে সেজন্য আমাদের কেউ পদত্যাগ করে নাই। তখন সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝানো হয়েছিল যে দাড়িওয়ালা-টুপিওয়ালাদের দেশ পরিচালনা করার যোগ্যতা নাই। আমরা সেটির প্রমাণ দিয়েছি।
গোলাম পরওয়ার বলেছেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছর যারা এই দেশ শাসন করেছে, তাদের এখন লালকার্ড দেখাতে হবে। তারা নৈতিকতা, দেশপ্রেম, সততায় আর মানবিকতায় ব্যর্থতা দেখিয়েছে। এ দেশকে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি শাসন করেছেন। এই তিন দলকে যদি প্রশ্ন করা হয়, রাষ্টক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দুর্নীতি, দলীয়করণ, আর নির্যাতন করে নাই তখন তারা উত্তর দিতে পারবে না। এর অন্যতম কারণ প্রত্যেকটি দল শোষণ করেছে। তাই সেই ফেলু ও শাসক পার্টিদের নিয়ে আর দেশ পরিচালনা চলবে না।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি বঙ্গভবন ও ইন্ডিয়ার প্যাকেজ প্রোগ্রামের মাধ্যমে জামাতের জনপ্রিয়তা ক্ষুণ্ন করার জন্য সাইবার অ্যাটাক শুরু করেছে। বর্তমানে মানুষকে বলে বেড়ানো হচ্ছে, দারিপাল্লায় ভোট দিলে নাকি পশ্চিম পাকিস্তান হয়ে যাবে। আবার কেউ কেউ ভোট দিতে গেলে ঠ্যাং ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া দিচ্ছে। আসছে নির্বাচনের জন্য প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলাম। আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার সিসি ক্যামেরার অর্থ বরাদ্দ করেছেন। বডি ক্যামেরা থাকবে। আপনারা মনে রাখবেন, মাস্তান পার্টিরা কেউ কিছু করতে গেলেই ধরা খেয়ে যাবে। এই নির্বাচনে সেনাবাহিনী, বিজিবি মোতায়েন থাকবে।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামী আমির মাওলানা আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে এবং জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবু সাঈদ মুন্নার সঞ্চালনায় জনসভায় অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, নারায়ণগঞ্জ মহানগরী জামায়াত সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মানোয়ার হোসাইন, জেলা সেক্রেটারি মো. হাফিজুর রহমান এবং ৫টি সংসদীয় আসনের ১১ জোটের মনোনীত প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
মো. আকাশ/কেএইচকে/এএসএম