অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে কেন্দুয়ার রোয়াইল বাড়ি দুর্গ


প্রকাশিত: ০৭:৪৪ পিএম, ০৬ জুলাই ২০১৬

রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শন  রোয়াইল বাড়ি দুর্গ। বাংলার শাসনকর্তাদের ইতিহাস সমৃদ্ধ এই প্রাচীন দুর্গটি দিনদিন দখল হয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে এটিকে রক্ষণাবেক্ষণর ও সংস্কারের দাবি জানালেও বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসছে না ।

একসময় বাংলার সুলতান হুসেন শাহ, নুসরত শাহ ও পরবর্তীতে ঈসা খাঁ এই নেত্রকোনার রোয়াইল বাড়ি দুর্গ থেকেই ভাটি বাংলা শাসন করতেন। ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এই দুর্গের খনন কাজ চালিয়ে অর্থাভাবে কাজ বন্ধ করে দেয় ।

পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে ৫২ একর ভূমিকে দুর্গ এলাকা ঘোষণা করে সরকার।  ঘোষণা কৃত সামান্য অংশের খনন কাজ থেকে বেরিয়ে আসে ইটের দেয়াল বেষ্টিত দুর্গ, মূল প্রবেশদ্বার, বহুকক্ষ বিশিষ্ট একাধিক ইমারতের চিহ্ন, সান বাঁধানো ঘাটসহ দু’টি পুকুর, দু’টি পরিখা, বুরুজ ঢিবি বা উঁচু ইমারত, বার-দুয়ারি মসজিদ,দুর্গ থেকে বের হওয়ার সুরঙ্গপথসহ অসংখ্য প্রাচীন নিদর্শন।
 
প্রত্যেকটি ইমারতের গায়ে রয়েছে লতাপাতা ও ফুল ফলের রঙিন কারুকাজ। তবে পুরো দুর্গ এলাকা খনন করলে অসংখ্য প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বেরিয়ে আসবে এবং তা আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

ইতিহাস ঐতিহ্য এই রোয়াইলবাড়ি দুর্গ এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে রক্ষণাবেক্ষণ করে পর্যটন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করবে সরকার এমনটিই প্রত্যাশা নেত্রকোনাবাসীর। এদিকে দুর্গ এলাকায় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একজন কেয়ারটেকার থাকলেও স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তি দুর্গের জায়গা দখল করে বাড়িঘর, ফসলি জমি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
 
কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুতাসিমুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, ঐতিহাসিক নিদর্শন রোয়াইল বাড়ি দুর্গটি রক্ষণাবেক্ষণ এবং পর্যটকদের আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। অবৈধ দখলদারদের দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে বলেও জানান তিনি।

কামাল হোসাইন/এসকেডি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।