ভোটের দিন কেন্দ্র দখলের শঙ্কায় রাঙ্গামাটির প্রার্থী জুঁই চাকমা
নির্বাচনি ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ ও ভোটের দিন কেন্দ্র দখলের আশঙ্কা করছেন ২৯৯ নম্বর রাঙ্গামাটি আসনের বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি মনোনীত কোদাল প্রতীকের প্রার্থী জুঁই চাকমা।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমি যখন নির্বাচনি প্রচারণায় বিভিন্ন উপজেলায় গিয়েছি, তখন দেখেছি একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী-সমর্থকরা নির্বাচনি আচরণবিধি মানছেন না, এর দায় রাঙ্গামাটি আসনের রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচন কমিশনের। ভোটের মাঠে যারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন আর ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তারা কী করবেন তারাই ভালো জানেন। শুরু থেকে আমরা লক্ষ্য করেছি, রাঙ্গামাটি আসনের রিটার্নিং অফিসার ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসারের ভূমিকা রহস্যজনক।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা শহরের কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় নির্বাচনি কার্যালয়ে ‘মিট দ্য প্রেস’এ তিনি এমন অভিযোগ করেন।
এসময় তার সঙ্গে নির্বাচনি মুখ্য এজেন্ট নির্মল বড়ুয়া মিলন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব পলাশ চাকমা, যুগ্ম সদস্য সচিব অপু বড়ুয়া, সদস্য প্রকাশ চৌধুরী বড়ুয়া, নিখিল চাকমা, অরুনজিতা চাকমা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জুঁই চাকমা বলেন, এবার রাঙ্গামাটি আসনে ৬টি জাতীয় রাজনৈতিক দল, একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রত্যক্ষভাবে ও দুইটি আঞ্চলিক গোষ্ঠী পরোক্ষভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। দুইটি আঞ্চলিক গোষ্ঠী পরোক্ষভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর থেকে ভোটারদের মুখ কালো। এই দুইটি আঞ্চলিক গোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দের কাছে আমার আহ্বান থাকবে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে গণতান্ত্রিক পন্থায় ভোটাররা যেন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। আপনাদের হাতে সুযোগ এসেছে জনপ্রিয়তা যাচাই করার।
তিনি বলেন, আমি জানতে পেরেছি ইতোমধ্যে সুবলং লঞ্চঘাটের যাত্রী ছাউনি থেকে ও জীবতলী ইউনিয়নের হাজার মানিক নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, হাজাছড়ি হেডম্যানপাড়া যাত্রী ছাউনির সামনে থেকে আমার নির্বাচনি প্রচারণার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং দুঃখজনক ঘটনা।
তিনি আরও বলেন, আমি যেখানে গিয়েছি মানুষ আমাদের সাদরে গ্রহণ করেছেন, চা-নাস্তা-ভাত দিয়ে আপ্যায়ন করেছেন। নারী ভোটাররা আমাকে তাদের কাছে পেয়ে বুকে জড়িয়ে ধরেছেন, আমার নির্বাচনি প্রচারণার কাজে সহযোগিতা করেছেন। রাজনীতির মাধ্যমে মানুষের সেবা করার মানসিকতা আমার আরও সুদৃঢ় হয়েছে। এ নির্বাচনে আমি জিতলেও ওই মানুষগুলোর কাছে যাব, না জিতলেও আমি তাদের সাথে দেখা করতে যাব।
এসময় তিনি রাঙামাটি আসনের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর কাছে তিনটি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- নির্বাচনের ভোটগণনা বিবরণী ‘ফরম-১৬’ প্রতিটি কেন্দ্রের ভোটের ফলাফল যেন প্রার্থীদের সরবরাহ করা হয়, ভোটকেন্দ্র দখল ও পেশিশক্তি প্রয়োগের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক যেন ওই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ করা হয় এবং বিনাবাধায় যেন ভোটারগণ তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। এছাড়া কোনো প্রার্থীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক যেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভোট প্রদানে বাধা, ভোটকেন্দ্র দখল ও পেশিশক্তি প্রয়োগের অভিযোগে ওই অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়।
আরমান খান/এমএন/এমএস