ব্যারিস্টার ফুয়াদ

রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ৫ অভিযোগ দিয়েও সুরাহা পাইনি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বরিশাল
প্রকাশিত: ০৫:২৮ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল-৩ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিলে তারা বলছেন এসপিকে জানাতে। এসপি আবার বলছেন বিষয়টিতে তাদের এখতিয়ার নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঁচটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো সুরাহা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন বরিশাল-৩ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর আশ্বিনী কুমার টাউন হলে নির্বাচন কেন্দ্রিক সামগ্রিক পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‌‘ওএসডি হওয়ার ভয়ে কেউ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর অনেক ডিসি-এসপি তাদের কৃতকর্মের দায়ে চাকরি হারিয়ে কারাগারে রয়েছেন। আমরা নির্বাচিত না হলেও পক্ষপাতমূলক আচরণ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা এলাকার সন্ত্রাসীদের তালিকা দিয়েছি। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমাদের সঙ্গে একমত হলেও ওপর মহলের গড়িমসির কারণে কোনো অভিযান হচ্ছে না। সন্ত্রাসীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে ও ভোটারদের প্রভাবিত করছে।’

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘নির্বাচনি এলাকার মুলাদী উপজেলার নদীবেষ্টিত তিনটি ইউনিয়নের ১৪টি কেন্দ্র অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শফিপুর, বাটামারা ও নাজিরপুর ইউনিয়নে একটি বিশেষ দলের ক্যাডাররা ভোটারদের হুমকি দিচ্ছে। কেন্দ্রে যেতে দেবে না কিংবা নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে চাপ দিচ্ছে। এসব এলাকায় ভোট ডাকাতির আশঙ্কা রয়েছে। আমাদের পক্ষে পোলিং এজেন্ট দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিশ্চয়তা দিতে হবে।’

ভোটকেন্দ্রে কেউ গন্ডগোল করলে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে ১১ দলীয় জোটের এই প্রার্থী বলেন, সেটা যদি আমার লোকও হয় তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইনের প্রশ্নে কাউকে ছাড় নেই। এখনো অনেক কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়নি। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

অন্য প্রার্থীদের সমালোচনা করে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘তারা ভোটারদের মানুষ নয়, ছাগল মনে করছেন। অবৈধ টাকা দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করছেন। তারা বলে, কাঁঠালপাতা দেখালেই ছাগলের অভাব হয় না।’

এ বিষয়ে জানতে বরিশাল জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম বলেন, ‌‘ওনার এ অভিযোগটি আসলে ভিত্তিহীন। কারণ আমরা যে কোনো প্রার্থীর অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখেছি। সেখানে তার এমন অভিযোগ করার কী কারণ তা আমার জানা নেই।’

সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, সহকারী সেক্রেটারি আজিজুর রহমান অলিদ, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম, জেলা ও মহানগর এবি পার্টির সদস্য সচিব জিএম রাব্বিসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শাওন খান/এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।