কক্সবাজারে সেনা টহল জোরদার, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশেষ সতর্কতা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৬:৩০ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে কক্সবাজার ও দক্ষিণ চট্টগ্রাম অঞ্চলে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী ও যৌথবাহিনী ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কঠোর নজরদারি এবং সারা জেলায় বিশেষ টহল জোরদার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আয়োজিত যৌথবাহিনীর প্রেস ব্রিফিং ও মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।

মতবিনিময় সভায় রামু ক্যান্টনমেন্টের ১০ পদাতিক ডিভিশনের লে. কর্নেল তানভীর আহমেদ বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে পর্যাপ্ত সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের জন্য অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন এবং ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনা করে ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান প্রস্তুত ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা শুধু ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নয়, সব কেন্দ্রকেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছি। যাতে কোনো দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে অল্প সময়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছানো যায়। এজন্য একাধিকবার রিহার্সালও সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচন চলাকালে কোনো পরিস্থিতি উদ্ভূত হলে আমরা দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবো।

লে. কর্নেল তানভীর জানান, অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় এবার সেনা মোতায়েনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্যাম্পগুলোতে অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে চেকপয়েন্ট, ফেন্সিংয়ের ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশের মেরামতও সম্পন্ন হয়েছে। ক্যাম্পের আশপাশে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে সেনাবাহিনীসহ এপিবিএন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

কক্সবাজারে সেনা টহল জোরদার, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশেষ সতর্কতা

তিনি বলেন, সেনা ও অন্যান্য বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে পারবো। রোহিঙ্গারা যেন কোনোভাবেই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।

এর আগে সংবাদ ব্রিফিংয়ে সেনা কর্মকর্তা সুপতা জানান, গত ৩ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথবাহিনী ৪৬টি যৌথ অভিযান চালায়। এসব অভিযানে চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, ডাকাত দলের সদস্য, কিশোর গ্যাং, চোরাকারবারি ও বিভিন্ন মামলার আসামিসহ ৫৯ জন অপরাধী এবং এক হাজার ১৪৯ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়।

তিনি জানান, অভিযানে, ৬টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ১৪ রাউন্ড গোলাবারুদ, ১১৪টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র, ৮ হাজার ৪৫০ পিস ইয়াবা, ২ হাজার ৩১১ লিটার দেশীয় মদ, ৪৯ লিটার বিয়ারসহ বিভিন্ন নাশকতা সৃষ্টিকারী সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে, র‍্যাব-১৫-এর সিনিয়র এএসপি মো. ফারুক, বিজিবি রামু সেক্টরের মেজর নাজমুস সাকিব, জি-২ (ইন্ট) মেজর ওমর ফারুক এবং কক্সবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পিয়ার উপস্থিত ছিলেন।

সায়ীদ আলমগীর/কেএইচকে/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।