জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশ
নির্বাচন বানচালের ছক, নওগাঁর সেই আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার
নওগাঁ বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট ও শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদের উপদেষ্টা চন্দন কুমার দেবকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় শহরের একটি মহল্লায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সন্ধ্যা ৭টায় চন্দন কুমারকে নাশকতা মামলায় গ্রেফতারের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
এর আগে দুপুরে ‘মানবাধিকার সংগঠনের আড়ালে নির্বাচন বানচালের ছক আ’লীগ নেতার’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে জাগো নিউজ।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, রাত পেরোলেই ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট। ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এরই মাঝে নওগাঁয় নির্বাচন বানচালে চেষ্টায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীরা। জেলায় বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন (বিএইচআরসি) নামে একটি মানবাধিকার সংগঠনের আড়ালে নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট ও শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদের উপদেষ্টা চন্দন কুমার দেবের বিরুদ্ধে। তাকে ভোট শুরুর আগেই আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতারা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আওয়ামী লীগের অধীনে গত তিনটি বিতর্কিত সংসদ নির্বাচনে নওগাঁয় ভোটের মাঠে পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে ছিল বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন (বিএইচআরসি)। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা চন্দন কুমার দেব ছিলেন সাবেক খাদ্যমন্ত্রী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাধন চন্দ্রের অতি ঘনিষ্ঠ। সেই সুবাদে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট ও শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদের জেলা কমিটিতে চন্দন ছিলেন উপদেষ্টা পদে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে সরকারি সব কর্মসূচিতে সামনের সারির চেয়ার রাখা হতো তার জন্য। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দীর্ঘ দিন গা ঢাকা দিয়ে পালিয়ে ছিলেন চন্দন। নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের লুকিয়ে থাকা নেতাকর্মীদের নিয়ে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি। ভোটের ঠিক দুদিন আগে মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টায় শহরের ফুড প্যালেস রেস্তোরাঁয় একটি মতবিনিময় সভা করে বিএইচআরসি। যেখানে যুব মহিলা লীগ নেত্রী পারুলসহ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
আরও পড়ুন:
মানবাধিকার সংগঠনের আড়ালে নির্বাচন বানচালের ছক আ’লীগ নেতার
অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে মানবাধিকার সংগঠনের নামে সংগঠিত হয়ে ভোট বানচালের চেষ্টা করছেন চন্দন কুমার দেব। ভোটের দিন কয়েকটি টিমে বিভক্ত হয়ে গোপনে কাজ করবেন তার সংগঠনের লেবাসে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। যাদের মানবাধিকার সংগঠনের নামে বিভিন্ন আইডি কার্ড দেওয়া হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া নওগাঁর ছাত্র প্রতিনিধি ফজলে রাব্বী বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে জেলার মোট ভোটারের প্রায় এক তৃতীয়াংশের বয়সই ১৮-৩৩ বছরের মধ্যে। যারা মুখিয়ে আছেন ভোটকেন্দ্রের দিকে। পলাতক আওয়ামী লীগের এমপিদের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী মানবাধিকার সংগঠনের ব্যাপারে প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নওগাঁ জেলা কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক দেওয়ান মাহবুব আল হাসান সোহাগ বলেন, ‘ভোটের বাকি মাত্র একদিন। এসময়ে আমরা বিভিন্নভাবে খবর পাচ্ছি মানবাধিকার সংগঠনের নামে চন্দন কুমার দেব পলাতক নেতাকর্মীদের সংগঠিত করছেন। মানবাধিকার সংস্থার নামে তারা ভোটের মাঠে নাশকতার পরিকল্পনা করতে পারেন। ভোট সুষ্ঠুভাবে সফল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপচেষ্টাকারীদের রুখে দেবে, এমনটাই আশা করছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট ও শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদের উপদেষ্টা চন্দন কুমার দেব নিজেকে ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে দাবি করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা ছিলাম, এটা সত্য। তবে শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদে ছিলাম না। এসব সাংস্কৃতিক সংগঠন। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন (বিএইচআরসি) একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। ভোটের মাঠে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ পুরোটাই ভিত্তিহীন।’
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাইবার টিমকে অ্যাকটিভ রাখা হয়েছে। ভোট বানচালের অপচেষ্টাকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে ১১টি থানার ওসিদের নির্দেশনা দেওয়া আছে।’
আরমান হোসেন রুমন/এসআর/এমএন