জুডিসিয়াল সার্ভিস ছেড়ে রাজনীতিতে এসে প্রথমবারেই মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাঙ্গামাটি
প্রকাশিত: ১০:০২ এএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দীপেন দেওয়ান

পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি থেকে দীর্ঘ একযুগ পর মন্ত্রী হলেন অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দেশের সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী দীপেন দেওয়ান বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের বাবা সুবিমল দেওয়ান ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মন্ত্রী পদ মর্যাদায় উপদেষ্টা। রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পিতার পথ অনুসরণ করে ২০০৬ সালে সরকারি চাকুরি ছেড়ে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন দীপেন দেওয়ান। ছাত্র অবস্থাতেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

রাঙ্গামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখার পাঠ চুকিয়ে রাজনীতিতেই থিতু হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও পরিবারের চাপে শেষ পর্যন্ত বিসিএসে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হন ও সপ্তম বিসিএসে তিনি জুডিসিয়াল সার্ভিসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে চাকরিতে যোগ দেন।

২০০৬ সালে চার দলীয় জোট সরকারের শেষ সময়ে তৎকালীন উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান দলত্যাগ করলে দলে যোগ্য নেতার প্রয়োজনে খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রায় ২০ বছরের জুডিসিয়াল সার্ভিসের চাকুরি ছেড়ে যোগদান করেন রাজনীতিতে। আর রাজনীতিতে যোগদানের পর একের পর কালো মেঘের ছায়া এসে পড়ে রাজনৈতিক জীবনে। রাজনীতির নানান চড়াই-উতড়াইয়ের পর অবশেষে দেখা পেলেন সোনার হরিণ।

প্রথমবার সংসদ সদস্য এবং প্রথমবারেই পূর্ণমন্ত্রী। পেয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব।

২০০৬ সালে তিনি রাজনীতিতে যোগদানের পর বাংলাদেশের রাজনীতির চড়াই-উতড়াইয়ের কারণে সেসময় আর নির্বাচন না হয়ে ওয়ান ইলেভেন সৃষ্টি হলে আটকে যায় দীপেন দেওয়ানের ভাগ্য। ওয়ান ইলেভেন সরকারের নতুন নির্বাচনি আইনের ফাঁদে আটকে পড়ে মাত্র তিন মাসের মেয়াদের জন্য ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচন করতে পারেননি দীপেন দেওয়ান। এরপর ২০১০ সালে বিএনপির জেলা সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৬ সাল থেকে অদ্যাবধি তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পূর্ববর্তী রাঙ্গামাটির বিএনপির অভিভাবক হিসেবে কাজ করে গেছেন দীপেন দেওয়ান। অবরোধ, মিছিল-মিটিংয়ের সবখানেই ছিল তার সরব উপস্থিতি। দুঃসময়েও দলের হাল ছেড়ে না যাওয়া দীপেন দেওয়ান অবশেষে হয়েছেন জেলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে দীপেন দেওয়ানও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। এরপর মন্ত্রিসভার গঠনের জন্য একই দিন দুপুরে তিনি ফোন পেয়ে বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

এদিকে দীর্ঘ একযুগ পর রাঙ্গামাটি থেকে মন্ত্রী মনোনীত হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন বিএনপির জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি উচ্ছ্বসিত রাঙ্গামাটির পাহাড়ি ও বাঙ্গালিসহ স্থানীয় জনসাধারণ।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির (শান্তি চুক্তি) পর ১৯৯৮ সালের ১৫ জুলাই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়। তখন এই মন্ত্রণালয়ের প্রথম মন্ত্রী করা হয় ২৯৮ নম্বর খাগড়াছড়ি আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য কল্পরঞ্জন চাকমাকে। এরপর ২০০১ সালে মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হন রাঙ্গামাটি আসনের সংসদ সদস্য মনিস্বপন দেওয়ান। ২০০৮ সালে প্রতিমন্ত্রী হন রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার।

এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালে দুই মেয়াদে প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী হয়েছেন বান্দরবানের সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর। সবশেষ ২০২৪ এর দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পর এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছিল খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরাকে। সে হিসেবে ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন রাঙ্গামাটির সাবেক সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, এর ১২ বছর পর এবারের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর রাঙ্গামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ানকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হলো।

আরমান খান/এমএন/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।