ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

মোনাজাতে জিয়াউর রহমানের নাম না নেওয়ায় হট্টগোল, পুনরায় মোনাজাত

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ০৩:৫৭ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মোনাজাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করায় প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রদল। পরে তার নাম উল্লেখ করে পুনরায় মোনাজাত করা হয়।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দিবসের প্রথম প্রহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন চত্বর থেকে পদযাত্রা বের হয়। পদযাত্রা শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

প্রশাসনের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে বিভিন্ন অনুষদ, বিভাগ, হল, সমিতি, ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মো. নসরুল্লাহ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।

শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন ও দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব আশরাফ উদ্দিন খান। তবে মোনাজাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম নিতে ভুলে যান তিনি। এ ঘটনায় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হন এবং তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করে দ্বিতীয়বার মোনাজাতের দাবি জানান।

এসময় নেতাকর্মীরা বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। মোনাজাতে কেন তার নাম নেওয়া হবে না? যার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করতে পারছেন, তার নাম নিতে ভুল হয় কীভাবে? ভিসি ও আজকের আয়োজক কমিটিকে এর জবাব দিতে হবে। জিয়া পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পদত্যাগ করতে হবে। পুনরায় মোনাজাত করে এরপর সবাই এখান থেকে স্থান ত্যাগ করবে। ইচ্ছাকৃতভাবে শহীদ জিয়ার নাম নেয়নি বলে অভিযোগ তোলেন শাখা ছাত্রদল।

পরে আয়োজকদের পক্ষ থেকে পুনরায় মোনাজাত পরিচালনা করা হয় এবং সেখানে তার নাম উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ধর্মীয় মূল্যবোধ, আইন ও বিজ্ঞানসহ আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আজকের এ মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসের মোনাজাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নামটি বাদ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এটি সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত। আমাদের ইমাম সাহেব অত্যন্ত ভদ্র ও সজ্জন ব্যক্তি, তিনি সচরাচর এমন ভুল করেন না। মূলত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা উদ্যাপন কমিটি পরিকল্পিতভাবে তার নাম বাদ দিয়েছে বলে আমরা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে মনে করি। আমার নেতৃবৃন্দ এ ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছি। বর্তমান প্রশাসনও পূর্বের ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে। গুটিকয়েক শিক্ষকের একটি দল ভিসিকে জিম্মি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন কমিটির আহ্বায়ক, জিয়া পরিষদের প্রচার সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, ‘মানুষের ভুল হতেই পারে। ইমাম সাহেবেরও এখানে ভুল হয়েছে। দোয়া ও মোনাজাতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম না নেওয়াটা অনিচ্ছাকৃত ভুল। আমি ছাত্রজীবন থেকে শহীদ জিয়ার আদর্শ লালন করি। তাই ইচ্ছাকৃতভাবে নাম বাদ দেওয়ার ব্যাপারে আয়োজক কমিটির বিরুদ্ধে যে অভিযোগটি এসেছে সেটি ভিত্তিহীন।’

ইরফান উল্লাহ/আরএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।