রাঙ্গামাটিতে লেবুর হালি ৬০ টাকা, ফলের দামে স্বস্তি
রমজানে দেশের প্রায় সব বাজারে ফলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে অস্থিরতা থাকলেও পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি এর ব্যতিক্রম। এখানে রমজানের আগে এবং বর্তমান সময়ে ফলের দামে খুব বেশি তারতম্য ঘটেনি।
সোমবার দুপুরে শহরের বনরুপা বাজারে সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, রমজানের শুরুতে লেবুর দাম স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বাড়তি থাকলেও বর্তমানে আকারভেদে এক হালি লেবু ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। আপেল, কমলা পাইকারি বাজারে কার্টন (২০/৩০ কেজি) প্রতি ৪০০-৫০০ টাকা দাম বাড়লেও খুচরা বাজারে এর তেমন প্রভাব পড়েনি বলে জানান রাঙ্গামাটির ফল ব্যবসায়ীরা।

শহরের বনরুপা বাজারের মুখে ফলের দোকান নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম। তিনি জানান, রমজানে আমরা কোনো ফলের দাম বাড়াইনি, পারলে আগের চাইতে কম রাখার চেষ্টা করি। কারণ রমজানে বিক্রি বেশি হয়। খেজুর আগে যে দামে বিক্রি করেছি এখনো একই দামে বিক্রি করছি। এছাড়া আপেল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি, চায়না কমলা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি, আঙুর (৩ প্রকার) ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, আনার ৫০০ টাকা কেজি দামে বিক্রি করছি।
এদিকে বাজারে উঠতে শুরু করেছে মৌসুমী ফল তরমুজ। আকারভেদে ২০০ থেকে ৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এসব তরমুজ। শহরের প্রায় প্রতিটা বাজারেই তরমুজের দেখা মিলেছে। বিক্রিও ভালো হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতা আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, মৌসুমের শুরুতে এবং রোজা উপলক্ষে দাম কিছুটা বাড়তি তবে এখন চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সরবরাহ আরো বাড়বে, তখন দামও কমতে শুরু করবে।
শহরের রিজার্ভ বাজার এলাকার বাসিন্দা ইমতিয়াজ ইমন বলেন, রমজানে লেবুর দাম খুব বেশি ছিল, তরমুজের দামও অনেক বেশি তবে অন্যান্য ফলের দাম স্বাভাবিক রয়েছে।

বনরুপা এলাকার বাসিন্দা মো.মহিউদ্দিন ও জিয়াউল হক বলেন, রমজানের শুরুতে প্রায় সব পণ্যের দাম বাড়তি ছিল, লেবু ও শষার দাম অস্বাভাবিক বাড়তি নেয়া হয়েছে। খেজুরের দামও কিছুটা বেড়েছে। তবে বর্তমানে সব পণ্যের দামই কিছুটা কমতে শুরু করেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো দরকার।
রাঙ্গামাটির বৃহত্তর বনরুপা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এসএম জাহান লিটন জাগো নিউজকে বলেন, রমজানের শুরুতে নিত্য প্রয়োজনীয় প্রায় সকল পণ্যের দাম বেশি ছিল। এখন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। আমরা সমিতির পক্ষ হতে অন্যান্য ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের সাথে নিয়ে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। তবে প্রশাসানের নজরদারি বাড়ানো দরকার।
আরমান খান/আরএইচ/এএসএম