মিয়া গোলাম পরওয়ার
অর্ধশতাধিক আসনে পরিকল্পিতভাবে জামায়াত প্রার্থীদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হলেও ভোট গণনা, ফলাফল তৈরি করা ও ফলাফল ঘোষণার সময় ব্যাপক ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। জামায়াতের বিজয় ঠেকাতে প্রায় ৫০টিরও বেশি আসনে পরিকল্পিতভাবে সামান্য ব্যবধানে জামায়াতের প্রার্থীদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল মোড়ের তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে মহানগর জামায়াতের রুকন (সদস্য) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অন্যবারের মতো ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা বা বড় কোনো সহিংসতার ঘটনা ছিল না। ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে রায় দিয়েছেন। কিন্তু রাত ৯টার পর রহস্যজনকভাবে মিডিয়াতে ফলাফল প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়। মূলত ভোট গণনা, ফলাফল তৈরি ও ঘোষণার সময় কারচুপি করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনকে কিছু সংশয় দূর করতে হবে উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে, ভোট শেষ হওয়ার আগেই প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা এজেন্টদের কাছ থেকে কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে নিয়েছেন, অথচ এটার কোনো সুযোগ নেই। এ জন্য সন্দেহ জাগে যে, রেজাল্ট শিটে ঘষামাজা, কাটাছেঁড়া করে ফলাফলকে বিভিন্ন জায়গায় ইঞ্জিনিয়ারিং করা হতে পারে, এ সংশয় আমাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে এটি দূর করতে হবে। যেসব আসন থেকে লিখিত অভিযোগ আমরা নির্বাচন কমিশনে দিয়েছি, সেসব তদন্ত করা, সেই ব্যালটগুলোকে হেফাজত করে পুনর্গণনা করে জাতির সামনে সত্য উন্মোচন করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, দেশের ৫০টিরও বেশি সংসদীয় আসনে আমাদের প্রার্থীদের ১ হাজার থেকে ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সেসব আসনের ব্যালট পেপার হেফাজত করে পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানাচ্ছি।
জামায়াতের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছিল উল্লেখ করে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, দেশের জনগণ এবারের নির্বাচনে যেভাবে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণজোয়ার তৈরি করেছিল, তাতে আমরাই শুধু বিস্মিত হইনি, দেশের মানুষও বিস্মিত হয়েছে, মিডিয়া বিস্মিত হয়েছে। আমাদের যারা শত্রুতা করেছে, তারাও বিস্মিত। ভোটকেন্দ্রগুলোতে বড় ধরনের ঘটনা ছাড়া ভোটারের উপস্থিতি ও দাঁড়িপাল্লার পক্ষে রায় আমরা দেখতে পাচ্ছিলাম। কিন্তু ভোট গণনা শুরু হলো, সারা দেশ থেকে ফলাফলে একের পর এক আসনগুলোতে আমাদের বিজয়ের খবর আসতে থাকলো, রাত ৯টার পরে রহস্যজনকভাবে মিডিয়াতে সেই ফলাফল বন্ধ করে দেওয়া হলো।
১১ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধীদলের ভূমিকা পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, আমরা জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সংসদে জনগণের কথা বলবো। সরকারের ভালো কাজে সহযোগিতা করবো, কিন্তু জুলুম ও অন্যায়ের তীব্র প্রতিবাদ জানাবো।
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। সরকারকে এসব সহিংসতা কঠোর হাতে দমন করার আহ্বান জানান তিনি।

সরকারকে সতর্ক করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা ইতোমধ্যে খবর পাচ্ছি, সরকার ফ্যামিলি কার্ড বা নানান সুযোগ–সুবিধার বয়ান আগে দিয়েছিল, এখন এসে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য যেসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তার আগেই সরকারি দলের লোকেরা সেই সুযোগ নেওয়ার জন্য হামলে পড়ছে। দেশের উন্নয়নে, দারিদ্র্য বিমোচনে, জনগণের উন্নয়নে নিশ্চয়ই সরকার ভূমিকা রাখবে। সেই ভূমিকা যেন দলনিরপেক্ষ হয়, জনগণের স্বার্থে হয় ও মানুষের কল্যাণে হয়। সেখানে যদি কোনো দলীয় বিবেচনা করা হয়, তাহলে বুঝতে হবে এই অভিযোগ আমরা আগে যাদের ব্যাপারে করেছি, তাদের সঙ্গে বর্তমান সরকারের কোনো চরিত্রগত পার্থক্য নেই। এ ব্যাপারে এক্ষুনি সতর্ক হওয়ার সময়।
ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির কামরুল আহসান এমরুলের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. শাহাবুদ্দিন, মতিউর রহমান আকন্দ, জেলা জামায়াতের আমির আবদুল করিম, মহানগর নায়েবে আমির আসাদুজ্জামান সোহেল, আনোয়ার হাসান সুজন, সহ-সেক্রেটারি মাহবুবুল হাসান শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক আল হেলাল তালুকদার, বায়তুলমাল সম্পাদক গোলাম মহসীন খান প্রমুখ।
কামরুজ্জামান মিন্টু/এমএন/এএসএম