প্রতিদিন দুই শতাধিক অসহায় পান ১৪ পদের রাজকীয় ইফতারি
ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে পটুয়াখালী ফোর লেন এলাকা হয়ে ওঠে এক টুকরো প্রশান্তির ছায়া। নীল টি-শার্ট পরা একদল তরুণ স্বেচ্ছাসেবকের তৎপরতায় রাস্তার পাশে বিছানো ত্রিপলে সাজানো হয় সারি সারি ইফতার। কোনো ভেদাভেদ নেই, নেই কোনো কৃত্রিমতা। রিকশাচালক থেকে শুরু করে সাধারণ পথচারী—সবাই এক সারিতে বসে ইফতার করছেন।
‘পটুয়াখালীবাসী’ নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে গত পাঁচ বছর ধরে চলা এই আয়োজনে প্রতিদিন অন্তত দুই শতাধিক রোজাদার একসঙ্গে ইফতার করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পটুয়াখালীবাসী’র উদ্যোগে পটুয়াখালীর বিত্তবান ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় রমজানজুড়ে প্রতিদিন দুই শতাধিক রোজাদারের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পথচারী, দিনমজুর, রিকশাচালক, শ্রমজীবী মানুষ ও বয়স্ক রোজাদাররা সময়ের আগেই এসে বসে পড়েন ইফতারের সারিতে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু খাবার বিতরণেই সীমাবদ্ধ নয় এ উদ্যোগ। রোজাদারদের জন্য রয়েছে ওযুখানার ব্যবস্থা এবং ইফতারের পর জামাতে নামাজ আদায়ের সুযোগ। ফলে এটি কেবল একটি ইফতার কর্মসূচি নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ মানবিক আয়োজন। অনেকেই তাদের প্রয়াত বাবা-মায়ের নামে কিংবা ব্যক্তিগত উদ্যোগে একদিনের ইফতারের ব্যবস্থা করছেন। পুরো অর্থায়ন আসে বিভিন্ন বিত্তবান ও শুভানুধ্যায়ীদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা থেকে। সম্মিলিত এই অংশগ্রহণেই টিকে আছে মানবিকতার এই অনন্য দৃষ্টান্ত।
রিকশাচালক মিলন মিয়া বলেন, প্রতিদিন রাস্তার পাশে এমন আয়োজনে অংশ নিতে ভালো লাগে। এখানের পরিবেশ সুন্দর, খাবারের আইটেমও বেশি। যারা এই আয়োজন করছেন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন।

পথচারী লোকমান হোসেন জানান, সব সময় ইফতার কিনে খেতে পারি না। এখানে আমাদের জন্য ইফতার সাজিয়ে রাখে। আমরা পাশ দিয়ে গেলে ডাক দেয়। অনেক ধরনের খাবার থাকে। আমরা অনেক খুশি।
দিনমজুর বারেক খাঁ বলেন, প্রতিদিন শহরে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এখানে ইফতার করি। ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু, শরবত, খেজুরসহ নানা আইটেম থাকে যা টাকা দিয়ে কিনে খাওয়া কঠিন। রোজাদারদের সম্মানে যে আয়োজন, তা সত্যিই ভালো লাগে।

সংগঠনটির সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রাব্বি বলেন, বিভিন্ন বিত্তবান মানুষের সহযোগিতায় দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে আমরা এই ইফতার আয়োজন করে আসছি। প্রতিদিন দুই শতাধিক রোজাদারের জন্য ব্যবস্থা থাকে। পথচারী, দিনমজুর, রিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এখানে এসে ইফতার করেন।
তিনি বলেন, আমাদের এই আয়োজনে পটুয়াখালী পৌরসভাও সহযোগিতা করছে। ইফতারের পর জামাতে নামাজের ব্যবস্থাও রয়েছে। আমাদের সংগঠন সব সময় প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়াতে কাজ করে যাচ্ছে।
মাহমুদ হাসান রায়হান/কেএইচকে/জেআইএম