বাড়িতে বাদ্যযন্ত্র বাজলে বিয়ে পড়াতে যাবেন না ইমাম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ
প্রকাশিত: ০২:৪৭ পিএম, ০৭ মার্চ ২০২৬

বাড়িতে বাদ্যযন্ত্র কিংবা গান বাজানো হলে বিয়ে পড়াতে যাবেন না ইমাম। এমনকি ওই বাড়ির মৃত্যুর খবর দেওয়া যাবে না মসজিদের মাইকে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার তেররশিয়া পোড়াগ্রাম এলাকায় গত দুই মাস ধরে স্থানীয় ‘সমাজ রক্ষা কমিটি’র উদ্যোগে কার্যকর করা হয়েছে এমন নিয়ম। তবে প্রশাসনিকভাবে এর কোনো আইনি ভিত্তি না থাকায় খবর পেয়ে এলাকায় হস্তক্ষেপ করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পোড়াগ্রামের প্রায় ৪০টি পরিবার নিয়ে গঠিত একটি সমাজ এই উদ্যোগ নিয়েছে। স্থানীয় মসজিদের ইমামের নেতৃত্বে গঠিত ‘সমাজ রক্ষা কমিটি’র পক্ষ থেকে গ্রামজুড়ে বাদ্যযন্ত্র ও গান-বাজনা নিষিদ্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি বাইরে থেকে আসা ফেরিওয়ালারাও গ্রামে মাইক বাজিয়ে পণ্য বিক্রি করতে পারছেন না। গ্রামের বিভিন্ন মোড়ে ‘গান-বাজনা নিষিদ্ধ’ লেখা ব্যানার সাঁটানো হলেও সম্প্রতি পুলিশ গিয়ে সেগুলো সরিয়ে ফেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকায় প্রায় ৪০টি পরিবার বসবাস করে। সবাই ইসলাম ধর্মের অনুসারী এবং নামাজ আদায় করেন। কিন্তু মাঝে মাঝে এখানকার বিয়ে বাড়ি কিংবা কোনো আয়োজনে গান-বাজনা করা হয়। তাই আমরা সবাই মিলে উদ্যোগ নিয়েছি—এখন থেকে কোনো বাড়িতে গান-বাজনা চলবে না। আর যার বাড়িতে গান-বাজনা হবে তার বাড়িতে বিয়ে পড়াতে যাবেন না ঈমান।

বাড়িতে বাদ্যযন্ত্র বাজলে বিয়ে পড়াতে যাবেন না ইমাম

শফিকুল ইসলাম নামের আরও এক বাসিন্দা বলেন, গ্রামের মোড়ে মোড়ে ‘গ্রামে গান-বাজনা চলবে না’ লেখা ব্যানার সাঁটানো হয়েছে। এমনকি গ্রামের কোনো হকারও মাইকে প্রচার করতে পারবে না। মসজিদেও মৃত্যুর খবর প্রচার করা যাবে না। পরে পুলিশ এসে ব্যানারগুলো খুলে নিয়ে গেছে।

সদর উপজেলার পোড়াগ্রাম গ্রামের মসজিদের ইমাম আব্দুল মালেক বিন খলিরুর রহমান বলেন, বিপথগামী মানুষদের সঠিক দিক-নির্দেশনা দেওয়ার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেহেতু আর কোনো নবী–রসুল আসবেন না, তাই এই সমাজকে সংস্কারের পদক্ষেপ নিতে হবে। এরই অংশ হিসেবে গ্রামে গান-বাজনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বাড়িতে বাদ্যযন্ত্র বাজলে বিয়ে পড়াতে যাবেন না ইমাম

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন বলেন, গান-বাজনা বন্ধের আইনি কোনো নিষেধ নেই। তাই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তদন্ত করা হচ্ছে।

সোহান মাহমুদ/কেএইচকে/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।