জয়পুরহাটে

ভিজিএফের চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি জয়পুরহাট
প্রকাশিত: ০৯:০৯ এএম, ১৬ মার্চ ২০২৬

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নে অসহায় ও দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ভিজিএফের চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। রোববার (১৫ মার্চ) বড়তারা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা মিলে।

উপকারভোগীদের অভিযোগ, প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে সাড়ে ৮ কেজি থেকে সাড়ে ৯ কেজি পর্যন্ত। ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নিজেই উপস্থিত থেকে চাল ওজনে কম দিচ্ছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে ক্ষেতলাল উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৬ হাজার ৫৬৮টি পরিবারের জন্য ৬৫ দশমিক ৭৮০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের ১ হাজার ৫৭৮টি পরিবারের জন্য ১৫ দশমিক ৭৮০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে ডিজিটাল স্কেল মিটারে ওজন করে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও প্লাস্টিকের বালতিতে করে চাল দেওয়া হচ্ছে।

বিতরণকৃত চাল ওজন করে দেখা গেছে, ওজনে সাড়ে ৮ কেজি থেকে সাড়ে ৯ কেজি পর্যন্ত চাল দেওয়া হচ্ছে। প্রতিজন সুবিধাভোগীকে ১ থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত চাল কম দেওয়া হচ্ছে। শুধুমাত্র ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নিজেই উপস্থিত আছেন এবং তার উপস্থিতিতেই গ্রাম পুলিশরা চাল ওজনে কম দিচ্ছেন।

নিয়মানুযায়ী চাল বিতরণস্থলে ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

অন্যদিকে, পরিষদের বাইরে সুবিধাভোগীরা নামমাত্র মূল্যে ভিজিএফের চাল বিক্রি করে দিচ্ছেন। চাল ওজনে কম থাকার অজুহাত দেখিয়ে অসাধু চাল ব্যবসায়ীরা প্রত্যেক প্যাকেট চাল মাত্র ২০০ টাকায় কিনছে। তাদের দাবি, প্রত্যেক প্যাকেটে এক থেকে দেড় কেজি করে চাল কম আছে, তাই আমরা ২০০ টাকা করে কিনছি।

উপকারভোগী আজু বালাসহ বেশ কয়েকজন নারীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, তাদের ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে ৯ কেজি করে।

পরে তাদের অভিযোগ যাচাই করার জন্য চাল ডিজিটাল মিটারে ওজন করা হলে দেখা যায়, কোনো প্যাকেটে ৮ দশমিক ৫৫০ কেজি, কোনো প্যাকেটে ৮ দশমিক ৮০০ কেজি, কোনোটাতে ৯ দশমিক ১০০ কেজি পর্যন্ত চাল দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদকের নিকট সেসব ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত আছে।

ইউনিয়ন ভিজিএফ কমিটির সদস্য বড়তারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হালীম বলেন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ কেজি চালে এক-দেড় কেজি করে কম দেওয়া অন্যায়। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

এ বিষয়ে বড়তারা ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা দেওয়ান মো. ফজলে রাব্বী বলেন, চাল কম দেওয়ার অভিযোগ আমি এখনও শুনিনি। ট্যাগ অফিসার সকালে এসে ১০ কেজি ওজন করে উদ্বোধন করে দিয়ে গেছেন। আমি অফিসিয়াল কাজ করছি, চেয়ারম্যান এগুলো বিতরণ করছেন।

অভিযুক্ত ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের কাছে চাল কম দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের বড়তারা ইউনিয়নে ১ হাজার ৫৭৮ জনকে চাল দেওয়া হবে। এখানে আমাদের বালতিতে ওজন দেওয়া আছে। প্রত্যেককে তো ১০ কেজি করে চাল ওজন করে দেওয়া সম্ভব নয়। কোনোটাতে ২-৩শ’ গ্রাম কম যাচ্ছে, কোনোটাতে ২-৩শ’ গ্রাম বেশি যাচ্ছে। একটু কমবেশি হতেই পারে।

চাল বিতরণস্থলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার উপজেলা পল্লী ও দারিদ্র্য বিমোচন অফিসার সামিউল আল সাবাকে পাওয়া না গেলেও তাকে তার নিজ কার্যালয়ে পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, আমি যখন বড়তারা ইউনিয়নে ছিলাম, ওখানকার চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন সচিবকেসহ আমি যখন উদ্বোধন করেছি তখন বালতিতে ১০ কেজি করে ওজন করে দিয়ে এসেছি। উদ্বোধন করে আমি চেক বিতরণের জন্য অফিসে এসেছিলাম। তারা যদি ওজনে কম দিয়ে থাকেন তাহলে তার দায়ভার তাদেরকে নিতে হবে। কম দেওয়ার কোনো অধিকার তাদের নেই। আমি এখনই ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান বলেন, চাল ওজনে কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। খবর পেয়ে আমরাও এখানে এসেছি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছি, কম দিয়ে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা চৌধুরী বলেন, আমি জেলায় মিটিংয়ে আছি। খোঁজ নিয়ে দেখছি, কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাহফুজ রহমান/এনএইচআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।