যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর চুল কেটে নির্যাতন, স্বামীর দাবি পরকীয়া
মাগুরা সদর উপজেলায় যৌতুকের টাকা না পেয়ে এক গৃহবধূকে চুল কেটে ঘরে আটকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত দাউদ শেখ পলাতক রয়েছেন।
শুক্রবার (১ মে) রাতে সদর উপজেলার পুলিশ লাইন দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার বর্ষা খাতুন বর্তমানে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী বর্ষা খাতুন জানান, প্রায় চার বছর আগে মাগুরা সদর উপজেলার পাকা কাঞ্চনপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে বর্ষার সঙ্গে মোহাম্মদপুর উপজেলার কোমরপুর গ্রামের আবু সাঈদ শেখের ছেলে দাউদ শেখের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তার কাছে বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করতেন। দাবি পূরণ না হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ করেন বর্ষা।
তার দাবি, ১ মে রাতে আবারও ৫ লাখ টাকা দাবি করেন দাউদ শেখ। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার মাথার চুল কেটে ভিডিও ধারণা করা হয় এবং একটি কক্ষে আটকে রেখে ভয়ভীতি ও ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দেওয়া হয়। পরে হত্যার ভয় দেখিয়ে তাকে দিয়ে জোরপূর্বক মোবাইলে মিথ্যা বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন বর্ষা।
তিনি আরও জানান, ৩ মে বিকেলে পুনরায় নির্যাতনের পর তাকে অসুস্থ অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যান দাউদ শেখ। পরে তার মা নাজমা খাতুন ঘটনাটি জানতে পেরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগীর মা নাজমা খাতুন বলেন, আমার মেয়ের ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে, তার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। পরিবারের সিদ্ধান্তে তারা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দাউদ শেখ মুঠোফোনে দাবি করেন, তিনি পেশায় একজন ট্রাকচালক। যে কারণে বেশিরভাগ সময় তাকে বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। এই সুযোগে তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন এবং বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় ক্ষোভ থেকে তার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্ত্রীর একাধিক বিয়ে ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। তবে যৌতুক দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেন দাউদ শেখ।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিনারুল ইসলাম জুয়েল/এফএ/জেআইএম