পুরোনো সুতোয় গাঁথলো ৪৭ বছর আগের কৈশোর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি জয়পুরহাট
প্রকাশিত: ১১:০৯ এএম, ২৪ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় পার হয়েছে। জীবনের তাগিদে কেউ চিকিৎসক, কেউ প্রকৌশলী, আবার কেউ শিক্ষক হয়ে ছড়িয়ে পড়েছেন দেশের নানা প্রান্তে। কিন্তু শেকড়ের টান আর স্কুলজীবনের সেই অমলিন স্মৃতি তাদের আবারও এক ছাদের নিচে নিয়ে এসেছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) জয়পুরহাটের আক্কেলপুর সরকারি এফ. ইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৭৯ সালের এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী পরিণত হয়েছিল এক আবেগঘন মিলনমেলায়।

এদিন বেলা ১১টায় আক্কেলপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে এই উৎসবের সূচনা হয়। স্কুলজীবনের অর্ধশতাধিক বন্ধু এক রঙের পোশাক ও ক্যাপ পরে হাজির হয়েছিলেন। মিলনায়তনের প্রবেশপথে ১৯৭৯ সালের এসএসসি ব্যাচের পুনর্মিলনী-২০২৬ লেখা রঙিন ব্যানার যেন সবাইকে হাতছানি দিয়ে ডাকছিল ফেলে আসা সোনালি অতীতে।

দীর্ঘদিন পর একে অপরকে কাছে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। করমর্দন, কোলাকুলি আর আড্ডায় উঠে আসে ক্লাস ফাঁকি দেওয়া আর শিক্ষকদের কঠোর শাসনের সেই পুরোনো স্মৃতি। মুহূর্তেই প্রৌঢ়ত্বের খোলস ছেড়ে সবাই যেন ফিরে যান সেই দূরন্ত কৈশোরে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক গসির উদ্দীন ও ইসমাইল হোসেন। প্রিয় ছাত্রদের দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে শিক্ষক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘তোমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আজ আমি যেন সেই পুরোনো দিনে ফিরে গেছি। কিশোর বয়সের সেই দুষ্টুমিতে ভরা ছাত্রগুলো আজ জীবনের নানা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত মানুষ। একজন শিক্ষকের জন্য এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু হতে পারে না।’

আয়োজক কমিটির সম্পাদক মোছাদ্দেক আলী বলেন, জীবনের ব্যস্ততায় আমরা দূরে থাকলেও স্কুলের এই স্মৃতি আমাদের হৃদয়ের মণিকোঠায় অমলিন। এমন আয়োজন আমাদের জীবনে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করে। ভবিষ্যতেও এই বন্ধন অটুট রাখতে আমরা নিয়মিত পুনর্মিলনীর আয়োজন করতে চাই।

আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, শুভেচ্ছা বিনিময় ও আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দিনব্যাপী এই আয়োজন। বিদায়বেলায় সবার চোখেমুখে ছিল আবারও মিলিত হওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার।

মাহফুজ রহমান/এফএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।