কুড়িগ্রামে আজও চালকদের দীর্ঘ লাইন, পাম্পে নেই তেল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০৩:৪৩ পিএম, ২৪ মার্চ ২০২৬

জ্বালানি তেলের সংকটে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রাম। এর ফলে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষসহ বিপাকে পড়েছেন গণপরিবহনের যাত্রীরাও। ঈদের চতুর্থ দিনেও জেলার পাম্পগুলোতে মিলছে না পেট্রোল ও অকটেন। যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও ঝুলছে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড, আবার কোথাও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও খালি হাতে ফিরছেন চালকরা। বিশেষ করে মোটরসাইকেলচালকরা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপাকে। জরুরি প্রয়োজনে বের হয়েও অনেকে মাঝপথে আটকে পড়ছেন।

জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে গণপরিবহনেও। তেলের অপ্রতুলতাকে অজুহাত দেখিয়ে বাড়ানো হয়েছে ভাড়া। এতে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি বলেন, কয়েকদিন ধরে তেলের সংকট চলছে। গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার পর আজ তেল শেষ হয়ে গেছে। অটোতে মোটরসাইকেল তুলে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্প ঘুরেও তেল পাইলাম না।

এদিকে কিছু কিছু পাম্পে সীমিত পরিমাণ তেল সরবরাহ থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। ফলে সেখানে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। এ সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বোতলে করে তেল বিক্রি করছেন বেশি দামে।

অভিযোগ রয়েছে, সংকটের সুযোগ নিয়ে একটি সিন্ডিকেট চক্র গোপনে তেল মজুত করে চড়া দামে বিক্রি করছে। প্রতি লিটার পেট্রোল ও অকটেন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় গোপনে বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের অভিযানে কিছুটা শিথিল হলেও বন্ধ হয়নি এ কার্যক্রম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রায় ২০টি ফিলিং স্টেশনে দৈনিক প্রায় চার লাখ লিটার জ্বালানির চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে সরবরাহ নেমে এসেছে মাত্র ৫০ হাজার লিটারের কাছাকাছি। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ এবং ঈদের ছুটিতে কয়েকদিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় এ সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

ঢাকায় একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রাজারহাট উপজেলার নাজিমখাঁন গাবেরতল এলাকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়িতে এসেছিলাম। এখন তেল না থাকায় গাড়ি বের করতে পারছি না। সময়মতো ঢাকায় ফিরতে পারব কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

আব্দুল্লাহ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আনোয়ারুল ইসলাম রানা বলেন, সরবরাহে সমস্যা থাকায় আমরা পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছি না। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। আশা করছি দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, তিনিসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে মনিটরিং টিম বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন নিয়মিত পরিদর্শন করছেন। সার্বিকভাবে কঠোর নজরদারিতে রয়েছে সকল বিক্রয়কেন্দ্র। সংকট নিরসনে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

রোকনুজ্জামান মানু/আরএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।