পর্যটকে মুখর কুয়াকাটা সৈকত

উপজেলা প্রতিনিধি
উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
প্রকাশিত: ০৫:১৫ পিএম, ২৪ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘ দুই মাস রমজান ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পর্যটকশূন্য থাকার পর পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে সাগরকন্যা কুয়াকাটা। ঈদের দিনের বৃষ্টিভেজা আবহ কাটিয়ে দ্বিতীয় দিন থেকে দেশের অন্যতম এ সমুদ্রসৈকত পরিণত হয়েছে পর্যটকদের মিলনমেলায়। ঈদের দ্বিতীয় দিনের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পর্যটকদের ঢল নামে সৈকতে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়, যা একসময় রূপ নেয় জনসমুদ্রে। ঈদ ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা ছুটির সুযোগে পর্যটকদের এ ভিড় আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। পর্যটকদের এ আগমনে বিক্রি বেড়েছে ঝিনুক, বার্মিজ পণ্য থেকে শুরু করে আবাসিক হোটেল পর্যন্ত সকল ব্যবসায়ীদের।

কুয়াকাটার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান— শুটকি পল্লী, গঙ্গামতির সৈকত, রাখাইন পল্লী, ইকোপার্ক, ইলিশ পার্ক, লেবুর বন এবং ঝাউবাগান সবখানে দেখা গেছে উপচেপড়া ভিড়। পর্যটকদের কেউ নোনা জলে গোসল করে উপভোগ করছেন সমুদ্রের সান্নিধ্য, কেউ ব্যস্ত স্মৃতিবন্দি করতে ছবি তোলায়। আবার অনেকে রঙিন ছাতার নিচে বসে উপভোগ করছেন ঢেউয়ের শব্দ ও প্রকৃতির শান্ত সৌন্দর্য। ঘোড়ায় চড়ে সৈকতজুড়ে ঘোরাফেরা করতেও দেখা গেছে অনেককে।

পর্যটকে মুখর কুয়াকাটা সৈকত

ময়মনসিংহ থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক রিতা রানীর সঙ্গে কথা হয় ঈদের দ্বিতীয় দিন। তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে কুয়াকাটায় আসা সত্যিই দারুণ অভিজ্ঞতা। ঈদের দিন কুয়াকাটায় এসেছেন। ওই দিনের তুলনায় তার পরের দিন সৈকতে মানুষের উপস্থিতি অনেক বেশি, যা পরিবেশটাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

ঢাকা থেকে স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটক রায়সুল রনি বলেন, আমার বিয়ের পর কুয়াকাটায় চলে আসি। স্ত্রীকে নিয়ে হানিমুনের জন্য কুয়াকাটা বেছে নিয়েছি। এখন প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে কুয়াকাটার বিকল্প নেই। ঢাকা থেকে কম সময়েই কুয়াকাটা এসেছি।

পর্যটকদের ভিড় বাড়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝেও। ঝিনুক বিক্রেতা মো. রাসেল রহমান জানান, রমজান মাসে বিক্রি কম থাকলেও ঈদের দিন থেকে বিক্রি বাড়তে শুরু করেছে। এখন সারাদিন ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে এবং আয়ও বেড়েছে।

পর্যটকে মুখর কুয়াকাটা সৈকত

হোটেল খাতেও ফিরেছে চাঙ্গাভাব। হোটেল খান প্যালেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খান মোহাম্মদ রাসেল জানান, ঈদ উপলক্ষে তাদের শতভাগ কক্ষ বুকিং হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে পুরো সপ্তাহজুড়ে ভালো সাড়া পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, অনেক দিন পর কুয়াকাটায় এমন পর্যটকের ভিড় দেখা যাচ্ছে। পর্যটন খাতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত প্রায় ১৬টি পেশার মানুষ এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন এবং তাদের আয়-রোজগারও বেড়েছে। এছাড়া ২২০টির বেশি আবাসিক হোটেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ বুকিং হয়েছে, পাশাপাশি আশপাশের বাসাবাড়িও বুকিং হচ্ছে। কুয়াকাটায় ৩০ হাজার পর্যটকের রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা আছে, তবে বর্তমানে অনেক পর্যটক দিনে ভ্রমণ শেষে রাতে গন্তব্যে ফিরছেন। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত পর্যটকদের এ চাপ থাকবে বলে ধারণা তার।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যসচিব মো. কাউছার হামিদ জানান, সৈকতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ছয়টি টিম নিয়োজিত রয়েছে। যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং পর্যটকরা নিরাপদে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন।

আসাদুজ্জামান মিরাজ/আরএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।