হাসপাতালে যোগদান করেই নিখোঁজ ডা. বুশরা আলম!

আরিফুর রহমান আরিফুর রহমান , জেলা প্রতিনিধি খুলনা
প্রকাশিত: ১২:১১ পিএম, ২৫ মার্চ ২০২৬

কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকে চিকিৎসক বুশরা আলমের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। সিভিল সার্জন অফিসে খোঁজ নিয়েও তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না। পরে ক্ষুদেবার্তায় তার খোঁজ মিললো। তিনি জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, ‘জয়েন করার পর আমি যেতে পারিনি কারণ আমি খুবই সিক, আমি মেডিক্যাল সার্টিফিকেট নিয়ে এ্যাজ আর্লি এ্যাজ পসিবল যোগাযোগ করবো’।

বুশরা আলমে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের আওয়াতাধীন খালিশপুর লাল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক।

খুলনা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, জানুয়ারির ২৬ তারিখ ডা. বুশরা আলম খালিশপুর লাল হাসপাতালে যোগদান করেন। কিন্তু তিনি যোগদান করার পর একদিনও কর্মস্থলে উপস্থিত হননি। যার দরুন সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে। এরপর সিভিল সার্জন তাকে একাধিকবার চিঠি পাঠান। কিন্তু সন্তোষজনক কোনো উত্তর পাননি। এরপর মার্চের ৩ তারিখ, ৯ তারিখ এবং ১১ তারিখ তিন দফা চিঠি প্রদানের মাধ্যমে ডা. বুশরা আলমের কাছে কৈফিয়ত তলব করেন সিভিল সার্জন।

খালিশপুর লাল হাসপতালে গিয়ে ডা. বুশরা আলমকে না পেয়ে তার মুঠোফোনে কল করেন এই প্রতিবেদক। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘একটু ব্যস্ত আছি।’ পরে একাধিকবার কল দিয়ে তাকে না পেয়ে হয়াটসআপে ক্ষুদেবার্তা পাঠালে তিনি জানান, ‘জয়েন করার পর আমি যেতে পারিনি কারণ আমি খুবই সিক, আমি মেডিক্যাল সার্টিফিকেট নিয়ে এ্যাজ আর্লি এ্যাজ পসিবল যোগাযোগ করবো’।

খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের একজন কর্মকর্তা বলেন, খালিশপুর লাল হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৯০-১০০ জন রোগী আসেন। খালিশপুর শ্রমিক এলাকা হওয়ায় একটা সময় চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য খালিশপুর ডিসপেনসারি বা লাল হাসপাতাল স্থাপন করা হয়। রুটিন মাফিক ডাক্তারদের দায়িত্ব দেওয়া হয় এই হাসপাতালে। কিন্তু সেবা দেওয়ার ব্রত নিয়ে কোনো চিকিৎসক ওখানে যেতে চান না। এজন্য সাধারণ মানুষদের চিকিৎসাসেবা দিতে আমাদের অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব দিলে তা না মানলে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

খালিশপুর লাল হাসপাতালের সহকারী ইনচার্জ আব্দুল্লাহ বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, বুশরা আলম নামে কোনো ডাক্তার এখানে তো বসেন না! কেউ বদলি হয়েছে কিনা তাও জানি না। তবে রোগীদের সেবা দিলে টেরতো পেতাম যে বুশরা আলম নামে এখানে একজন ডাক্তার আছেন।

খুলনা সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খাতুন বলেন, ডা. বুশরা আলমকে দায়িত্ব দেওয়ার পর তিনি খালিশপুর ডিসপেনসারিতে যোগদান করেছেন। কিন্তু রোগী না দেখায় সেখানে চিকিৎসাসেবা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমি ডিসপেনসারিতে গিয়ে তাকে পাইনি। এরপর তাকে কৈফিয়ত তলব করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সদুত্তর না পাওয়ায় পুনরায় উপস্থিত হয়ে তাকে জবাব দেওয়ার জন্য বলা হয়। পরবর্তীতে খালিশপুর ডিসপেনসারিতে চিকিৎসাসেবা প্রদান সচল রাখতে চিকিৎসক দেওয়া হয়েছে।

এফএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।