ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ, লঞ্চে উপচে পড়া ভিড়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বরিশাল
প্রকাশিত: ০৪:৩০ এএম, ২৮ মার্চ ২০২৬

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে নৌপথে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে ঢাকা ফিরছে দক্ষিণাঞ্চলের কর্মজীবী মানুষ। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে আসা যাত্রীতে কানায় কানায় ভর্তি দেখা গেছে লঞ্চগুলো।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় বরিশাল নদী বন্দরে গিয়ে দেখা যায়, বিকেল থেকেই প্রতিটি লঞ্চে ঢাকা মূখী মানুষের উপচে পড়া ভিড়। কেউ কেউ শনিবার পর্যন্ত ছুটি বাড়িয়ে রোববার থেকে অফিস করার উদ্দেশ্যে শনিবার রওনা দিবেন।

নদী বন্দর ঘুরে দেখা যায়, প্র‌তি‌টি লঞ্চেই ধারণ ক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণ তিনগুণ যাত্রী উঠিয়েছে। যাত্রীরা জানান, ঈদের ছুটি শেষ হয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত যাত্রী হয়েই তাদের কর্মস্থলে ফিরতে হচ্ছে।

সুন্দরবন-১৬ লঞ্চের কেবিনের যাত্রী রাসেল সরদার বলেন, সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর ভিড় বেড়েছে। পরিস্থিতি এমন যে কেবিনের দরজা পর্যন্ত খোলা সম্ভব হচ্ছে না। পুরো লঞ্চের মধ্যে পা ফেলার মতো জায়গা নেই। এমনকি লঞ্চের নামাজের স্থানটুকু পর্যন্ত যাত্রীতে পরিপূর্ণ।

আরেক যাত্রী সবুজ বলেন, পরিবার ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না, তবুও রোববার থেকে অফিস শুরু হবে। সেজন্য রওয়ানা দিলাম।

অপর এক যাত্রী আইলিন বলেন, ঈদের আগেও আসার সময় সারারাত লঞ্চে একইভাবে কষ্ট করেছি, এখন আবার কষ্ট করেই ফিরতে হচ্ছে। বিকেল ৫টা থেকে নদী বন্দরে পুলিশ ও কিছু লোকজনকে হাতে মাইক নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী না ওঠা ও নির্ধারিত যাত্রী নিয়ে সময়মত লঞ্চ ছাড়ার জন্য মাইকিং করতে দেখছি। অথচ কে শোনে কার কথা।

যাত্রীদের অভিযোগ, সন্ধ্যা ৬টায় লঞ্চগুলো ছাড়ার কথা থাকলেও রাত সাড়ে ৮ টায়ও কোনো লঞ্চ ছাড়েনি। এ অবস্থায় সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এছাড়া ডেকের যাত্রীরা ভাড়া বেশি নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।

ডেকের যাত্রী ছালমা আক্তার বলেন, আগে ঢাকা-বরিশাল ১৫০-২০০ টাকায় যাতায়াত করছি এখন ৩০০-৩৫০ টাকা নিচ্ছে। লঞ্চের লোকজন বলছেন, তেলের দাম বাড়ায় ভাড়া এখন একটু বেশি। তবে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বলছেন তারা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করছেন।

এদিকে নদীবন্দরে যাত্রীদের নিরাপত্তায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সি‌ভিল ডিফেন্সের সদস্যরাও রয়েছে। এছাড়া লঞ্চগুলো যাতে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই না করতে পারে সেটি তদারকির জন্য জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ কাজ করছে।

সুন্দরবন নেভিগেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকতার হোসেন আকেজ বলেন, বছরজুড়ে লোকসান দিয়ে আমরা লঞ্চ মালিকরা দুটি ঈদের অপেক্ষায় থাকি। গত ঈদের এই সময় কিছুটা হলেও যাত্রী ছিল। কিন্তু এবার ঈদের ছয় দিন কেটে গেছে, এখন যাত্রী কিছুটা বাড়ছে। আগামীকাল ২৮ মার্চ যাত্রী চাপ আরও কিছুটা বাড়তে পারে। না হলে লোকসান গুনতে হবে লঞ্চ মালিকদের।

অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডেকের সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৪৫৩ টাকা। সেখানে সারাবছর ২০০ টাকার নিচে যাত্রী আনা নেওয়া করি। এখন তেলের সংকটসহ বিভিন্ন কারণে ৩০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। সে হিসেবেও সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম টাকায় যাত্রী পরিবহন করছি।

বরিশাল নদীবন্দর নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে গত ২৩ মার্চ থেকে কর্মস্থলমুখী মানুষের যাত্রা শুরু হয়। আজকে শুক্রবার ২টি ভায়াসহ থেকে ১০টি লঞ্চ বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এর আগে ২৩ মার্চ ৯ টি, ২৪ মার্চ ৬টি এবং ২৫ মার্চ ভায়া একটিসহ মোট ৭টি, ও ২৬ মার্চ ৮টি লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যায়।

বাসের তুলনায় লঞ্চের যাত্রী কম নয় দাবি করে বন্দর নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, একটি বাসে সর্বোচ্চ ৪০-৫০ জন যাত্রী ওঠে। অথচ একটি লঞ্চে একসঙ্গে দুই থেকে আড়াই হাজার পর্যন্ত যাত্রী থাকে। সে হিসেবে বাসের তুলনায় লঞ্চে যাত্রী কম নয়। তবে অতিরিক্ত যাত্রীর উঠানো বন্ধে বন্দর কর্তৃপক্ষ, নৌ পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। তাছাড়া ঈদ পরবর্তী এখন পর্যন্ত প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ হাজার করে যাত্রী লঞ্চযোগে বরিশাল ছেড়ে যান।

শাওন খান/এনএইচআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।