পর্যটন এলাকায় চুরি-ছিনতাই, কক্সবাজারে গ্রেফতার ৮
সৈকত তীরে পর্যটক ও দর্শনার্থী আধিক্যকে টার্গেট করে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। তাদের ছুরিকাঘাতে খুন ও আহত হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ছিনতাইকারী ও অপরাধী আটকে মাঠে নেমেছে পুলিশ।
শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে পৌরসভার সুগন্ধা পয়েন্ট, গুমগাছ তলা, লাবনী পয়েন্টসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮ জন ছিনতাইকারী ও অস্ত্রধারীকে আটক করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। তাদের সংশ্লিষ্ট আইনে আদালতে সোপর্দ করার উদ্যোগ চলছে বলে জানিয়েছেন ওসি ছমিউদ্দিন।
আটকরা হলেন- কক্সবাজার পৌরসভার কালুরদোকান এলাকার বসবাস করা চট্টগ্রামের পটিয়া হিলচিয়ার মোজাম্মেল হকের ছেলে সাহেদুল ইসলাম শাকিল (২৪), হাশেমিয়া মাদরাসাস্থ পিটিস্কুল এলাকায় বাসকরা চকরিয়ার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের সওদাগর ঘোনা এলাকার সাহাব উদ্দিনের ছেলে সাইফুল ইসলাম বাবু (২২), খুরুশকুল কুলিয়াপাড়া ও পৌরসভার সমিতিপাড়া দুই স্থানেই বাস করা চকরিয়ার ডুলাহাজারার চা-বাগান মালুমঘাট এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে মো. কায়সার (২১), ঝিলংজার কলাতলী চন্দ্রিমা মাঠ এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে জমির উদ্দিন (৩৬), পৌরসভার ঝাউতলা গাড়ির মাঠ ৫নং গলি এলাকার মৃত শফিউল আলমের ছেলে আনিছুল মোস্তফা (২৩), উখিয়ার রত্মাপালংয়ের কোটবাজার রুমখাবাজার এলাকার শাহ আলমের ছেলে আবদুল্লাহ (৩৪), ছয়টি পৃথক নামে নিজেকে আড়াল করা ছিনতাইকারী হারুন (৩০) ওরফে মুন্না, ওরফে মাতালম, ওরফে মো. আলম, ওরফে খাইরল আমিন, ওরফে আমিন) ও অপরজন শুক্কুর (২৮)।

তাদের মাঝে হারুনের ভিন্ন ভিন্ন নামে ২৫টির অধিক এবং শুক্কুরের পাঁটিরও অধিক মামলা রয়েছে
সদর থানার এসআই নুর মোহাম্মদ বলেন, অপরাধীদের ওপর পুলিশ যেমন নজর রাখে, তেমনি পুলিশের উপরও ছিনতাইকারী এবং অপরাধীরা নজর রাখে। পুলিশের একটু দূরে অবস্থানের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের লাইট হাউজ পাড়ায় গত ২৬ মার্চ ভোরে ছুরিকাঘাতের ভয় দেখিয়ে নোয়াখালীর রিফাত নামের এক পর্যটক যুবকের মোবাইলসহ সবকিছু ছিনিয়ে নেয়া হয়। যার সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হয়। যা পর্যটন নগরীর জেলা পুলিশের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত হারুন-শুক্করকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।
সদর থানার ওসি ছমিউদ্দিন জানান, পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশক্রমে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেলের পরিকল্পনায় ছিনতাইকারী, অস্ত্রধারী, মাদক উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। পৌরসভার সুগন্ধা পয়েন্ট, গুমগাছ তলা, লাবনী পয়েন্টেসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়। তবে, দুঃখজনক হলো এরা গ্রেফতারের পর চালান হয়, আইনিভাবে তারা ফের বের হয় ও আবার ছিনতাইয়ে যুক্ত হয়।
সায়ীদ আলমগীর/এমএন/জেআইএম