সাতক্ষীরায় শিলাবৃষ্টি-ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০৯:৩৩ এএম, ৩০ মার্চ ২০২৬

সাতক্ষীরায় হঠাৎ কালবৈশাখি ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে, গাছপালা উপড়ে পড়েছে এবং অনেক পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। এছাড়া কিছু এলাকায় বিদ্যুতের তারের ওপর সড়কের পাশের গাছের ডাল ভেঙে পড়ায় অনেক এলাকা এখনো বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

রোববার (২৯ মার্চ) রাত ১০টার দিকে আকস্মিক এ ঝড় শুরু হয়। প্রবল দমকা হাওয়া ও শিলাবৃষ্টিতে মুহূর্তেই জনজীবনে নেমে আসে দুর্ভোগ।

জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় টিনের ঘরবাড়ির চাল উড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও বড় গাছ ও ডালপালা ভেঙে সড়কের ওপর পড়ে, ফলে সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

সাতক্ষীরায় শিলাবৃষ্টি-ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

শহরের সুলতানপুর এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে অন্তত ১৫টি ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে। এতে অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে রাত পার করেছে।

শহরের সুলতানপুর এলাকার জবেদা খাতুন বলেন, রাতের ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেছে। ঘরের চাল নেই, ভেতরের জিনিসপত্রও নষ্ট হয়ে গেছে। এখন থাকার মতো কোনো জায়গা নেই।

বিউটি খাতুন বলেন, শিলাবৃষ্টির সঙ্গে ঝড় এত জোরে ছিল যে ঘর ধরে রাখা যায়নি। আমরা প্রাণ নিয়ে বের হতে পেরেছি, কিন্তু ঘরে আর কিছুই রইলো না।

এরশাদ হোসেন বলেন, গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়েছে। টিন উড়ে গেছে, সবকিছু তছনছ হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।

সাতক্ষীরায় শিলাবৃষ্টি-ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

এছাড়া শিলাবৃষ্টির কারণে আম ও কৃষি জমিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ সহায়তা ও সরকারি সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্নব দত্ত জাগো নিউজকে বলেন, রাত থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এসেছে। তবে এখনো পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হয়নি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আহসানুর রহমান রাজীব/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।