ভিডিও করায় দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় পাঠালেন এসিল্যান্ড

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা
প্রকাশিত: ১১:২২ পিএম, ০১ এপ্রিল ২০২৬
ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক

কুমিল্লার চান্দিনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে ভিডিও করায় মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে সহকারী কমিশনার ফয়সাল আল নূরের বিরুদ্ধে।

বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ২টার দিকে উপজেলা ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

সন্ধ্যার পর থেকে সাংবাদিকের হাতে হাতকড়া পরিহিত একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন কুমিল্লার কর্মরত সাংবাদিকরাও।

ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন- দৈনিক মানবজমিনের দেবিদ্বার উপজেলা প্রতিনিধি রাসেল সরকার এবং ফেস দ্য পিপল ও কুমিল্লার স্থানীয় পত্রিকা আমার শহরের দেবিদ্বার প্রতিনিধি আব্দুল আলিম।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক আব্দুল আলিম বলেন, ‘আমার আপন খালাতো বোনের নামজারি নিয়ে গত ১ বছর ধরে ঘুরাচ্ছেন এসিল্যান্ড ফয়সাল আল নূর। আজ (বুধবার) ওই নামজারির শুনানির দিন ছিল। খালাতো বোনের পক্ষ থেকে আমাকে সেখানে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হলে আমার সহকর্মী মানবজমিনের প্রতিনিধি রাসেলকে নিয়ে চান্দিনায় যাই।’

তিনি বলেন, ‘দুপুর পৌনে ২টার আমরা এসিল্যান্ডকে জিজ্ঞাসা করি শুনানিটা আজ হবে কি না। এসময় এসিল্যান্ড উত্তেজিত হয়ে আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু করেন। আমি মোবাইল ফোন বের করে এর ভিডিও করার সময় তিনি আমার কাছ থেকে ফোনটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় আমি বাধা দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ ডেকে আমাদের দুই জনকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যান। এসময় আমরা বারবার তাকে সাংবাদিক পরিচয় দিলেও তিনি আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন।’

আব্দুল আলিম আরও বলেন, ‘থানায় নেওয়ার পর আমাদের মোবাইল ফোন থেকে সব ছবি ও ভিডিও ডিলিট করে দেন। আমরা যেন বিষয়টি নিয়ে আর বাড়াবাড়ি না করি এই মর্মে আমাদের কাছ থেকে মুচলেকাও নেওয়া হয়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী কমিশনার ফয়সাল আল নূর বলেন, ‘আমি যখন ওয়াশরুমে যাবো তখন দেখি তিনি আমার রুমে ঢুকে ভিডিও করছেন। তাকে না করার পরও তিনি ভিডিও অব্যাহত রাখেন। পরে তার মোবাইল ফোন নিতে চাইলে দুই জনের মধ্যে তর্কের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাকে হাতকড়া পরানোর পর তিনি পরিচয় দেন সাংবাদিক। পরে থানায় বসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সামনেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এসময় দুজনের কাছ থেকে সাদাকাগজে মুচলেকা নেওয়া হয়।’

একপর্যায়ে ফয়সাল আল নূর এই প্রতিবেদককে সংবাদ না প্রকাশ করে তার অফিসে গিয়ে দেখা করা অনুরোধও জানান।

চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা এ ঘটনায় কোনোভাবে জড়িত নই। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যে আদেশ দিয়েছেন আমরা পুলিশ সেটাই পালন করেছি।’

কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মাসুক আলতাফ চৌধুরী বলেন, ‘সাংবাদিকদের হাতকড়া পরানো ঔদ্ধত্যপূর্ণ। তারা পরিচিত সংবাদপত্রে পেশাদার সাংবাদিক। ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কারণে প্রশাসন এবং সাংবাদিকদের সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে । আমরা এ ঘটনার তদন্তপূর্বক বিভাগীয় বিচার আশাকরি।’

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক (ডিসি) মু. রেজা হাসান বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। খোঁজ নিয়ে দেখছি মূল ঘটনা কী। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে সহকারী কমিশনার ফয়সাল আল নূরকে সতর্ক করা হবে।’

জাহিদ পাটোয়ারী/ইএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।