শরীয়তপুর

পাম্পে অ্যাপের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে তেল, নেওয়া যাবে দিনে একবার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ১০:০৬ পিএম, ০১ এপ্রিল ২০২৬

পাম্পে তেল সংগ্রহ করতে গেলে পূরণ করতে হচ্ছে একটি বিশেষ অ্যাপের ফরমেট। যেখানে রয়েছে পাম্পের নাম, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, জ্বালানির ধরন আর পরিমাণ। এতে দিনে শুধু একবার জেলার একটি পাম্প থেকেই তেল সংগ্রহ করতে পারছেন বাইকাররা। দ্বিতীয়বার তেল নিতে গেলে অ্যাপে দিচ্ছে বিশেষ বার্তা। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করতে পারছেন না কেউ। অসাধু চক্রের কৃত্রিম মজুত ঠেকাতে এমন ভিন্নধর্মী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসন।

ফিলিং স্টেশনের মালিক ও জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, শরীয়তপুর জেলায় মোট ছয়টি ফিলিং স্টেশন আছে। পাম্পগুলোতে প্রতিদিন ৪০ হাজার লিটার ডিজেল, ১৫ হাজার লিটার পেট্রোল ও ১২ হাজার লিটার অকটেনের চাহিদা আছে। ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বাজারে তেলের পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এতে বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির ডিপো থেকে স্টেশনগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। আর এমন পরিস্থিতিতে কিছু অসাধু বাইকচালক বিভিন্ন পাম্পে ঘুরে ঘুরে প্রয়োজনের তুলনায় অধিক তেল সংগ্রহ করে মজুত রাখছে। এতে পাম্পের মজুত কমে যাচ্ছে।

তাই তেল সংকট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ এক পদ্ধতি হাতে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। যেখানে পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করতে গেলে অ্যাপের মাধ্যমে পূরণ করতে হচ্ছে জ্বালানি তথ্য ফর্ম। আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে এ তথ্য চলে যাচ্ছে জেলার প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে। ফলে দিনে একবারের বেশি তেল নেওয়ার সুযোগ মিলছে না বাইকারদের। এতে পাম্প ঘুরে ঘুরে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ করে মজুতের সুযোগ মিলছে না অসাধু চক্রের। জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বাইকাররা। তারা এমন ব্যবস্থা সচল রাখার আহ্বান জানান।

jagonews24

শরীয়তপুরের একটি স্থানীয় হোমডেলিভারি সংস্থা ‘কী লাগবে শরীয়তপুর’ নামের প্রতিষ্ঠানের ডেলিভারিম্যান ইব্রাহিম। প্রতিদিন মোটরসাইকেল চালিয়ে মানুষের বাসা বাড়িতে খাবার ও পণ্য পৌঁছে দেন। সম্প্রতি কৃত্রিম তেল সংকটের কারণে ঠিকমতো সেবা দিতে পারছেন না। কিছু অসাধু চক্র প্রয়োজনের তুলনায় একাধিক পাম্পে গিয়ে অধিক তেল সংগ্রহ করায় অধিকাংশ সময় ডিপোর তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। তিনি বুধবার বিকেলে এসেছেন শহরের মেসার্স গ্লোরী ফিলিং স্টেশনে। এখানে এসে নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। যেখানে বাইকে তেল নিতে পূরণ করানো হচ্ছে অ্যাপের মাধ্যমে একটি বিশেষ ফরমেট। এই অ্যাপ পূরণের মাধ্যমে একটি স্টেশন থেকে দিনে একবার তেল নিতে পারবেন সবাই।

এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইব্রাহিম। তিনি বলেন, যার প্রয়োজন নেই সেও আগে ১০ থেকে ২০ লিটার তেল ঘুরে ঘুরে সংগ্রহ করতো। এখন অ্যাপের মাধ্যমে শুধু দিনে একবার একটি পাম্প থেকে তেলে সংগ্রহ করতে পারবে। অ্যাপটিতে মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, পাম্পের নাম ও জ্বালানির ধরন এন্ট্রি করা হয়। এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে গিয়ে আবার তেল নিতে তেলে অ্যাপে মাধ্যমে সেটি পাম্পকে জানিয়ে দেয়। তেল সিন্ডিকেট ঠেকাতে জেলা প্রশাসনের এটি সুন্দর উদ্যোগ।

আরেক বাইকচালক সাদমান রাদ বলেন, একজন বাইকার যদি দিনে একবার তার প্রয়োজনমতো তেল নিতে পারে তাহলে সারাদিন চলে যাবে। কিন্তু কেউ যদি একাধিকবার তেল নিয়ে তাহলে অন্য বাইকার তেল পাবে না। এখন যেহেতু এটি অ্যাপের মাধ্যমে একবারের ব্যবস্থা রেখেছে এটি ভালো উদ্যোগ। এখন আর কেউ অতিরিক্ত তেল নিতে পারবে না।

পাম্প ব্যবস্থাপকরা বলছেন অ্যাপের এমন ব্যবহারে হয়রানি কমেছে। তাই এমন ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে চালু রাখার দাবি তাদের।

মেসার্স গ্লোরী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মেহেদী হাসান বলেন, এই অ্যাপটি খুবই ভালো। যেখানে দিনে একবারের বেশি তেল নেওয়া যায় না। এখানে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের আলাদা আলাদা অপশন আছে। বাইকারের রেজিস্ট্রেশন নম্বর বসাতে হয়। যদি এক বাইকার দিনে একের অধিক পাম্পে তেল সংগ্রহ করতে যায় এপসের মাধ্যমে সো করে। এই উদ্যোগটি যদি ধরে রাখা যায় তাহলে সামনে কেউ আর তেল মজুত করতে পারবে না।

মূলত অসাধু চক্রের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এতে জেলাজুড়ে কমে আসবে জ্বালানি তেলের হয়রানি। জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, আমরা জানতে পেরেছি কিছু ব্যক্তি একাধিক পাম্পে ঘুরে ঘুরে তেল সংগ্রহ করে মজুত করে রাখছে। এতে ওনাদের মজুত বাড়ছে আর আমাদের তেলের মজুত কমছে। এতে প্রকৃত গ্রাহক তেল পাচ্ছে না। কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। আমরা এই সংকট ঠেকাতে গুগলের মাধ্যমে একটি বিশেষ অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট করেছি। যেখানে সকল পাম্পের তালিকা ও তেল নেওয়ার জন্য তিনটি অপশন পূরণ করতে হবে। এতে এক বাইকার দিনে একটি পাম্প থেকে একবার তেল সংগ্রহ করতে পারবে। কেউ আর বেশি করে তেল নিয়ে মজুত করতে পারবে না। আমরা অ্যাপটি ট্যাগ অফিসারের মাধ্যমে সব সময় মনিটরিং করছি।

বিধান মজুমদার অনি/এমএন

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।