অবশেষে দখলমুক্ত হচ্ছে কুমিল্লার নিমসার, জনমনে স্বস্তি
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বুড়িচংয়ের নিমসার বাজারে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে এ অভিযান শুরু করেন সওজ-এর কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা।
এর আগে গত বুধবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দেওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা-আলোচনা সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
বুড়িচং উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন জানান, নিমসার বাজারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চলমান রয়েছে। সওজের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মোকাম ইউনিয়নের নিমসার পাইকারি বাজার ঘিরে মহাসড়কের দুই পাশে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। সওজের জায়গা দখল করে প্রভাবশালীরা শতাধিক দোকান নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া আদায় করে আসছে।
স্থানীয়রা জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন ব্যবসায়ীরা সবজি, ফলমূলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য নিয়ে এই বাজারে আসেন। এটি দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় বাজার। যার কারণে মহাসড়কের দুই পাশে ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। অনেক সময় উল্টো পথে গাড়ি চলাচল এবং সড়কের ওপর মালামাল লোড-আনলোডের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এই অংশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

এছাড়া সম্প্রতি নিমসার এলাকায় একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নোয়াখালীর জহিরুল ইসলাম ও মেহেরপুরের সোহেল রানা নিহত হন। এরপর স্থানীয়দের মধ্যে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এতে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক দেখে সওজ কর্তৃপক্ষ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আইয়ুব আলী বলেন, নিমসার ঐতিহ্যবাহী একটি পাইকারি কাঁচা বাজার। ব্যবসায়ীরা যত্রতত্র ব্যবসায়ীরা মহাসড়কের ওপর গাড়ি পার্কি করেন। যার কারণে প্রায় এই এলাকায় যানজট থাকে। এতে মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এছাড়া দুর্ঘটনাও হয়। গত কয়েকদিন আগে এই এলাকায় দুইজন মানুষকে প্রাণ হারাতে হয়েছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগের ধন্যবাদ, তারা দেরিতে হলেও উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফার জাগো নিউজকে বলেন, এখনো আমাদের অভিযান চলছে। সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবো না।
উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ সওজের পক্ষ থেকে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ১ এপ্রিলের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ৩০ মার্চ এলাকায় মাইকিং করে দখলদারদের সতর্ক করা হয়। কিছু ব্যবসায়ী দোকান সরিয়ে নিলেও অধিকাংশই থেকে যান। অতীতেও একইভাবে নোটিশ দিয়েও অভিযান না হওয়ায় অনেকে বিষয়টি গুরুত্ব দেননি।
এদিকে, গতকাল রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল থেকে সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করলেও নির্ধারিত সময়ে অভিযান শুরু না হওয়ায় তারা ফিরে যান। অবশেষে আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়।
জাহিদ পাটোয়ারী/কেএইচকে/এএসএম