ঝিনাইদহ যেন মেসের শহর


প্রকাশিত: ০৫:০৯ এএম, ১৬ জুলাই ২০১৬

ঝিনাইদহ শহরে প্রায় ২০০`র অধিক মেস আর ছাত্রাবাস রয়েছে। শহরের হামদহ পাড়া, আদর্শ পাড়া, ব্যাপারী পাড়া, আরাপপুর, চাকলা পাড়া, পবহাটি, মডার্ন পাড়া, মহিলা কলেজ পড়া, পাগলাকানাই পাড়া, ওয়্যারলেস পাড়া, সোনালী পাড়া, কালিকাপুর ও হাসপাতাল পাড়াসহ আরও ১০টি পাড়ায় রয়েছে এ সকল মেস আর ছাত্রবাস। এক কথায় বলা চলে ঝিনাইদহ যেন মেস আর ছাত্রাবাসের শহর।

এলাকাবাসী জানায়, দুই বছর আগে এই মেসের সংখ্যা আররো বেশি ছিল। কিন্তু আস্তে আস্তে এর সংখ্যা কমতে থাকে। শহরে দুই শতাধিক ছাত্রাবাস আর মেস থাকলেও সেখানে কারা থাকে, কেন থাকে, কী করে, কার মেস, ঠিকানা কী, ক`জন থাকে, কত দিন আছে এসব ব্যাপারে বাড়ির মালিকসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও বিশেষ বা বিস্তারিত কিছু জানা নেই।

কয়েক জন বাড়ির মালিক জানান, মেসে অবস্থানকারীদের বড় একটি অংশ ঝিনাইদহ জেলাসংলগ্ন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে অনেকেই মসজিদে ইমামতি, মাদ্রাসা, কিন্ডারগার্টেন, বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা, টিউশনিসহ নানা পেশায় যুক্ত। এসবের পাশাপাশি অনেক ছাত্র, শিক্ষার্থী বাসা ভাড়া করে শহরে অবস্থান করছে।

সোনালীপাড়ার কাওসার হোসেনের স্ত্রী গৃহকর্ত্রী বিলকিস নাহার জানান, নিবরাস আমাদের বাড়ির মেসে গত ৪ মাস আগে থেকে থাকতো। তাকেসহ আরেকটি ছেলে মোস্তাফিজকে তুলে দেয় বাড়ি সংলগ্ন মসজিদের ঈমাম রোকুনুজ্জামান রোকন। গত ২৮ জুন সে মেস ছেড়ে চলে য়ায়।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলা শহরের সোনালীপাড়ার মেসে অবস্থানকারী সাইদ নামের ছদ্মবেশী জঙ্গি নিবরাস ইসলামকে কম-বেশি পাড়ার শিশু থেকে যুবক সবাই চিনতো। নিবরাস একটি লাল রঙের মোটরসাইকেলে মেস থেকে প্রায়ই শহরে যেত বলে তারা জানান। তার সঙ্গে দু’একজন থাকতো। আর প্রায়ই বিকেলের দিকে মেসের পাশে কিশোর-তরুণদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলত। ঢাকার গুলশানে জঙ্গি হামলার পর গণমাধ্যমে ছবি দেখে কারো কারো চোখে ভেসে ওঠে তাদের পাড়ার সাইদের সেই চেহারা।

ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হরেন্দ্রনাথ সরকার জানান, দু’একদিনের মধ্যেই এসব মেস, ছাত্রাবাসের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত তাদের হাতে আসবে। এ ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে কাজ শুরু হয়েছে।

আহমেদ নাসিম আনসারী/এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।