মুন্সিগঞ্জে পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে জবাই করা ১২ ঘোড়া উদ্ধার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মুন্সিগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৫:২৭ পিএম, ০৮ এপ্রিল ২০২৬

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে ১২টি জবাই করা ও একটি জীবিত ঘোড়া উদ্ধারের ঘটনায় এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্যের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ভবেরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোরে মহাসড়কের আনারপুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি পল্লি বিদ্যুৎ সাব-স্টেশনের পেছনে থাকা পরিত্যক্ত টিনের ঘর থেকে এসব ঘোড়ার মাংস উদ্ধার করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে মাংস ব্যবসায়ীদের একটি চক্র স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে গোপনে এমন নিষিদ্ধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, চক্রটি বিভিন্ন এলাকা থেকে অসুস্থ ঘোড়া কম দামে কিনে এনে জবাই করে সেগুলোর মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির জন্য হোটেলে সরবরাহ করতো।

বিষয়টি নিয়ে ভোরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে জবাই করা ঘোড়ার মাংস প্যাকেটজাত করার দৃশ্য দেখতে পান।

পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের খবর দিলে টের পেয়ে চক্রের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

এরপর পুলিশ ১২টি জবাই করা ঘোড়া ও একটি জীবিত ঘোড়া উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে চক্রটির ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

মুন্সিগঞ্জে পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে জবাই করা ১২ ঘোড়া উদ্ধার

স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল মিয়াজী জানান, ৬ মাস ধরে ওই এলাকায় অস্বাভাবিক কিছু কার্যক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় গ্রামবাসী নজরদারি শুরু করেন। ভোরে তারা ঘটনাস্থলে যায় চোর চক্র টের পেয়ে তারা কৌশলে পালিয়ে যায়। তবে এসময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত তিতাস ও রাজিব নামের দুজনকে তারা চিনতে পারে।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী নাজমুল হোসেন বলেন, প্রতি রোববার ও বুধবার গভীর রাতে পরিত্যক্ত ঘরটির সামনে অজ্ঞাত গাড়ি আসতে দেখা যেত। পরে সকালে সেখানে রক্ত ও পশুর হাড় পড়ে থাকতে দেখা যেত। অনুসন্ধানে জানা যায়, চক্রটি ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিভিন্ন হোটেলে সরবরাহ করত। পরে চামড়া, হাড় ও নাড়িভুঁড়ি গর্ত করে পুঁতে ফেলে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করত তারা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রিগ্যান মোল্লা বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি ১৩টি ঘোড়া জবাই ও একটি অসুস্থ ঘোড়া পাওয়া যায় সেটিকে চিকিৎসা দিয়ে একজনের হেফাজতে রাখা হয়েছে।

গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশের আগে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, আইন অনুযায়ী ঘোড়া জবাইয়ের কোনো সুযোগ নেই। তবে চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে গোপনে অবৈধভাবে অসুস্থ ঘোড়ার মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিভিন্ন হোটেলে সরবরাহ করে আসছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ফলে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা জবাইকৃত ঘোড়ার মাংস প্রাণিসম্পদ বিভাগের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে মাটি চাপা দেওয়া হয়। পাশাপাশি জীবিত থাকা অসুস্থ ঘোড়াটিকে প্রাণিসম্পদ বিভাগ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শুভ ঘোষ/আরএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।