ড্রেজার দিয়ে রাতারাতি বালু উধাও, হুমকিতে হাইমচরের নদী রক্ষা বাঁধ
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ঘটনায় হুমকির মুখে পড়েছে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নদী রক্ষা বাঁধ। এক রাতের ব্যবধানে কয়েক একর জেগে ওঠা বালুচর থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু নিয়ে গেছে প্রভাবশালী একটি চক্র। এতে বালচর বিলীন হয়ে সৃষ্টি হয়েছে গভীর পানির খাদ, যা স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়নের ১ নম্বর গাজীনগর এলাকায় নদী রক্ষা বাঁধ সংলগ্ন বিশাল বালুচরটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনের অংশ ছিল। আশেপাশে খেলার মতো খোলা জায়গা না থাকায় শিশু-কিশোরদের প্রধান ভরসা ছিল এই চর। প্রতিদিন বিকেলে সেখানে বসত ফুটবল খেলার জমজমাট আসর। কিন্তু মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে সেই চেনা দৃশ্য যেন এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার বিকেলেও যেখানে শিশু-কিশোররা খেলাধুলায় করেছিল, পরদিন সকালে গিয়ে দেখা যায় বালুচরটি নেই। রাতের আঁধারে প্রভাবশালী একটি চক্র ড্রেজার দিয়ে বালু কেটে নিয়ে গেছে। ফলে সেখানে এখন শুধু অথৈ পানি আর ভাঙনের শঙ্কা।
স্থানীয় বাসিন্দা দুলু মুন্সি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সোমবার বিকেলে এখানে ছেলেরা ফুটবল খেলেছে। সকালে এসে দেখি মাঠটাই উধাও। ড্রেজার দিয়ে সব বালু তুলে নেওয়া হয়েছে। এভাবে বালু কাটতে থাকলে নদী রক্ষা বাঁধ টিকবে না। বাঁধ ভেঙে গেলে আমাদের বসতভিটা, ফসলি জমি সব নদীতে চলে যাবে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নদীর তীর ঘেঁষে নির্মিত বাঁধটি এখন মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। হাইমচর থানা পুলিশ জানায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে সাতজনকে আসামি করে মঙ্গলবার একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের মধ্যে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে আসা জাহিদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী একটি চক্র মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ভাঙন ও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ ঘটনায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদী রক্ষা বাঁধের স্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, মামলার পরপরই আমরা অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করেছি। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমাদের স্টকে থাকা কংক্রিট ব্লক এনে প্রাথমিকভাবে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের জন্যও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শরীফুল ইসলাম/এনএইচআর/জেআইএম