দিঘির ঘাট থেকে কুকুর টেনে নিলো কুমির, যা জানালেন প্রত্যক্ষদর্শীরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ০৪:২৮ পিএম, ১১ এপ্রিল ২০২৬

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজার দিঘির কুমির কুকুরটেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার একটি ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় চলছে। ‘কুকুরটি হাত-পা বেঁধে কুমিরের সামনে ফেলা হয়েছে খাওয়ানের জন্য’ এমন শিরোনামে অনেকেই ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে। তবে মাজার কর্তৃপক্ষ, প্রত্যক্ষদর্শী এবং সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অপতথ্য।

তারা জানান, ঘটনাটি বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলের। মাজারের দিঘির ঘাটের কাছে একটি অসুস্থ কুকুর শিশু ও নারীসহ কয়েকজনকে কামড় দেয়। তখন কয়েকজন কুকুরটি তাড়া করে। পরে কুকুরটি নারীদের ঘাট থেকে মূল ঘাটের দিকে আসে। সেখানে মাজারের নিরাপত্তাপ্রহরী ফোরকানকে কামড় দেয়। তিনি পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি ঘাটে পড়ে যায়। সিঁড়ি পিচ্ছিল হওয়ায় কুকুরটি আর ওপরে উঠতে পারেনি। একপর্যায়ে কুমির কুকুরটিকে ধরে টেনে পানির নিচে নিয়ে যায়। এই অংশটুকু ফেসবুকে মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়।

ভাইরাল ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কুকুরটি ঘাট থেকে ওঠার চেষ্টা করছিল কিন্তু উঠতে পারছিল না। এক পর্যায়ে কুমিরটি কুকুর ধরে টেনে পানির নিচে নিয়ে যায়। এসময় কুকুরটির পা বাঁধা এমন কিছু দেখা যাইনি।

মাজারের ঘাটের পাশের দোকানি বিনা আক্তার বলেন, কুকুরটি আমার দোকানের সামনেও কয়েকজনকে কামড় দেয়। পরে ঘাটে ফোরকানের পায়ে কামড় দিলে ফোরকান পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি ঘাটে পড়ে যায়। এসময় ঘাটে কুমির থাকায় কেউ সাহস করে কুকুরটি টেনে তুলতে পারেনি।

মাজারের নিরাপত্তাপ্রহরী মো. ফোরকান হাওলাদার বলেন, ঘাটে কুমিরটি অবস্থান করছিল তখন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীরা কুমিরটি দেখছিল। এসময় আমি নিরাপত্তার জন্য ঘাটেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ একটা পাগলা কুকুর এসে আমার পায়ে কামড় দেয়। আমি পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি পানিতে পড়ে যায়। পরে ঘাটে থাকা কুমির কুকুরকে ধরে পানির নিচে নিয়ে যায়। আধা ঘণ্টা পরে কুকুরটি অন্য ঘাটে ভেসে উঠলে কুকুরটি উদ্ধার করে মাটি চাপা দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, আমি কুকুরটির কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার পর বাগেরহাট জেলা সদর হাসপাতালে টিকা নিয়েছি।

স্থানীয় যুবক মেহেদী হাসান তপু বলেন, কুমিরটি সাধারণত এ ধরনের আচরণ করে না। দিঘির এই কুমিরটি ডিম পেড়েছে। এ সময় মাদি কুমির একটু হিংস্র হয়ে যায়। এজন্য অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা ঘটেছে। তবে হাত-পা বেঁধে কুকুরটি কুমিরের সামনে ফেলা হয়েছে এমন শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু গুজব ছড়িয়েছে। যার কোনো ভিত্তি নেই। আপনারা মূল ভিডিওটি দেখলেও বুঝতে পারবেন। কুকুরটির পা বাঁধা ছিল না।

খানজাহান আলী মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক। মাজারের পবিত্রতা রক্ষার সার্থে সবাইকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করার দাবি জানান তিনি।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, মাজারের ঘাটে কুকুরটি কুমির টেনে নিয়ে যাচ্ছে এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিষয়টি নজরে আসায় আমরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্তে আসল ঘটনা উঠে আসবে। তবে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি কুকুরটি অসুস্থ ছিল। কেউ তাকে বেঁধে কুমিরের সামনে ফেলেনি।

নাহিদ ফরাজী/এনএইচআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।