বগুড়া-৬ উপনির্বাচন: কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ১০:১৬ এএম, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বগুড়া প্রিকেডেট স্কুল কেন্দ্রে গিয়ে ভোটারশূন্য দেখা যায়। ছবি/ জাগো নিউজ

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণের প্রথম দেড় ঘণ্টায় কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা।

সকাল থেকে শহরের বগুড়া জিলা স্কুল, প্রি-ক্যাডেট হাই স্কুল, বগুড়া সেন্ট্রাল হাই স্কুল, সূত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সেউজগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাসনাজাহান উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, কেন্দ্রগুলোর সামনে কর্মীদের ভিড় থাকলেও সাধারণ ভোটারদের দীর্ঘ সারি নেই।

প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, প্রথম এক ঘণ্টায় অনেক কেন্দ্রে ভোট পড়েছে প্রায় শতাধিক। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ কিছুটা কম দেখা যাচ্ছে।

বগুড়া-৬ উপনির্বাচন: কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম

সকাল ৮টার দিকে শহরের হাসনাজাহান উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপি সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। ভোট প্রদান শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোট হচ্ছে। বগুড়ার মানুষ উন্নয়নের স্বার্থে ধানের শীষের পক্ষেই রায় দেবেন। জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।

এর আগে সকাল সাড়ে ৭টায় সেউজগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল।

জয়ের ব্যাপারে আশা ব্যক্ত করলেও তিনি কিছুটা শঙ্কা প্রকাশ করেন। আবিদুর রহমান অভিযোগ করেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের যে সংস্কৃতি, বগুড়া তার বাইরে নয়। গত রাতে আমাদের এক কর্মীকে মারধর করা হয়েছে। কোনো ধরনের নির্বাচনি ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার চেষ্টা করা হলে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তবে অধিকাংশ কেন্দ্রে তার এজেন্টরা প্রবেশ করতে পেরেছেন বলে তিনি জানান।

বগুড়া-৬ উপনির্বাচন: কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম

রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিম জানিয়েছেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচনি এলাকায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশের পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করছেন। বিজিবি সদস্যরা ১১ এপ্রিল পর্যন্ত স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে থাকবেন।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০৯ জন। ১৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৩টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এর মধ্যে ৫টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকায় রয়েছে সরকারি আজিজুল হক কলেজের পুরাতন ভবন, ভাণ্ডারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও করোনেশন ইনস্টিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে নির্বাচিত প্রার্থী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় এখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর পাশাপাশি বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির আল আমিন তালুকদারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আজ বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে।

এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।