কৃষক বাঁচলে দেশের মানুষ ভালো থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৩:০৯ পিএম, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কৃষকরা যদি বেঁচে থাকে, দেশের মানুষ ভালো থাকতে পারবে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে কৃষককে আত্মনির্ভরশীল ও সচ্ছল হিসেবে গড়ে তোলা। সেজন্য আমরা কৃষক কার্ড দিয়েছি। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আমরা কৃষকদের সরাসরি ১০ সুবিধা পৌঁছে দিতে পারবো।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইলে শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে কৃষক কার্ড বিতরণ ও প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধনের প্রধান অতিথির বক্তব্যের তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ১৫ জন কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড ও গাছের চারা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‌‘আমাদের পরিবারের কেউ না কেউ কৃষির সঙ্গে জড়িত। দেশের চার কোটি পরিবারের কেউ না কেউ কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত। এ দেশের প্রধান পেশাই হলো কৃষি। ২২ হাজার কৃষককে আমরা প্রথম পর্যায়ে কৃষক কার্ডের সুবিধা পৌঁছে দিতে চাচ্ছি।’

কৃষক বাঁচলে দেশের মানুষ ভালো থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

তিনি বলেন, ‘আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা আজ উদ্বোধন করলাম। নির্বাচনের আগে দেশের মানুষের কাছে আমরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তার মধ্যে কৃষক কার্ডও ছিল। দেশের ১২ লাখ কৃষক সুদসহ ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণের মওকুফের আওতায় সুবিধা পেয়েছেন।’

আরও পড়ুন:
টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করবো। খাল খননের মাধ্যমে বন্যার সময় অতিরিক্ত পানি পরবর্তী সময়ে যেন আমরা ধরে রাখতে পারি, সেজন্য খাল খনন আমাদের একটি লক্ষ্য।’

তিনি বলেন, শুধু কৃষিপণ্য উৎপাদন করলেই হবে না, যেসব অঞ্চলে কৃষিপণ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত কলকারখানা আছে, সেগুলো যাতে প্রতিষ্ঠিত করা যায়, আমাদের পণ্য যাতে বিদেশে রপ্তানি করতে পারে, সেজন্য আমরা পদক্ষেপ নেবো।

কৃষক বাঁচলে দেশের মানুষ ভালো থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

এসময় টাঙ্গাইলের মধুপুরের আনারসসহ অন্যান্য ফসল যাতে হিমাগারে রাখা যায়, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন সময় দেশ গড়ার। কৃষক ভাইদের পাশে আমরা যেমন দাঁড়াবো, তেমনি আমাদের নারী সমাজকে স্বাবলম্বী করে তুলতে না পারলে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো না। পরিবারের নারী প্রধানের জন্য আমরা ফ্যামিলি কার্ড শুরু করতে সক্ষম হয়েছি। পর্যায়ক্রমে আমরা চেষ্টা করবো আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব নারী প্রধানদের মধ্যে যাতে এই কার্ডের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া যায়।’

অনুষ্ঠানে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষি সচিব রফিকুল-ই-মোহামেদ।

আব্দুল্লাহ আল নোমান/এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।