নেত্রকোনায় জামায়াতের এমপির গাড়িতে হামলা মামলায় গ্রেফতার ৩
নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনে জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফাকে অবরুদ্ধ করা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) রাতে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
বহিষ্কার হওয়া নেতারা হলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইশতিয়াক আহম্মেদ বাবু, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সাজু আহম্মেদ এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোলায়মান কবির।
এদিকে, রোববার দিনগত গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে মামলার ৩ নম্বর আসামি সাজু আহম্মেদ ও ১০ নম্বর সোলাইমান কবির পাপ্পুকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পূর্বধলা সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দলের সভাপতি আইয়ুব আলীকে গ্রেফতার করে পূর্বধলা থানা পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা গাড়িতে তেল ভরতে শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উপজেলা সদরের আতকাপাড়া গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে যান। পরে গাড়ি রেখে ফিলিং স্টেশনেই নামাজখানায় মাগরিবের নামাজ আদায় করার জন্য যান। কিছুক্ষণ পর ১৫টির মতো মোটরসাইকেলে ২৫-৩০ জন যুবক পাম্পে এসে মোটরসাইকেলে তেল নিতে চান এবং সেখানে হট্টগোল সৃষ্টি করেন।
একপর্যায়ে তারা মাছুম মোস্তফার গাড়িতে ভাঙচুর চালান। এসময় মাছুম মোস্তফা নামাজ শেষ করে ঘর থেকে বের হতে চাইলে বিক্ষুব্ধ যুবকরা তাকে ধাওয়া করে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আলম তালুকদারের নেতৃত্বে মাছুম মোস্তফাকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ওইদিন রাত সোয়া ২টার দিকে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী মো. আল আমিন বাদী হয়ে ৬৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৬০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।
আরও পড়ুন:
নেত্রকোনায় জামায়াতের এমপির গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর
মামলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাছুম মোস্তফার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী পূর্বধলা উপজেলার বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবু তাহের তালুকদারকে প্রধান আসামি করা হয়। পুলিশ এ পর্যন্ত ১২ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। সবশেষ উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ককে গ্রেফতার করে।
এদিকে, সন্ত্রাস, হানাহানি ও দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইশতিয়াক আহম্মেদকে দলের প্রাথমিক পদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার রাতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
অন্যদিকে, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম সই করা পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সাজু আহম্মেদ এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোলায়মান কবিরকে প্রাথমিক সদস্যপদ দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের বহিষ্কৃতদের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনিক মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নেত্রকোনা ডিবির পরিদর্শক (পশ্চিম) দেবাংশু কুমার জানান, গ্রেফতার সাজু আহমেদ ও সোলাইমান কবিরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এইচ এম কামাল/এসআর/এএসএম