পুরোনো সিলেবাসে প্রশ্ন, হল সুপারসহ পাঁচজনকে অব্যাহতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ১১:১৪ এএম, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

বগুড়ার শেরপুরে দাখিলের গণিত পরীক্ষায় পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেইসঙ্গে দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে পরীক্ষার সকল কার্যক্রম থেকে হল সুপার ও চার কক্ষ পরিদর্শককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামান হিমু এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল জোব্বার ও শিক্ষা অফিসের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার মো. জাকির হোসেন।

এছাড়া অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- হল সুপার হায়দার আলী, কক্ষ পরিদর্শক হাসনা খাতুন, জোবায়দা খাতুন, কাওছার আহম্মেদ ও মামুনুর রশিদ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত রোববার (২৬ এপ্রিল) শেরপুর শহীদিয়া আলীয়া কামিল মাদরাসা কেন্দ্রের ১০১ ও ১০২ নম্বর কক্ষে মোট ২৯ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষা দেন। এর মধ্যে ফুলতলা দাখিল মাদরাসার ১০ জন, রাজারদীঘির ১৩ জন, চকসাদির ৩ জন ও উলিপুর আমেরিয়া মাদরাসার ৩ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। তারা সবাই নিয়মিত ও নতুন সিলেবাসের শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, গণিত পরীক্ষা শুরু হলে তারা নতুন সিলেবাসের শিক্ষার্থী হলেও তাদের হাতে পুরোনো ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র তুলে দেন কক্ষ পরিদর্শকরা। এমনকি এই ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়ে কেন্দ্র ত্যাগ করেন তারা। একপর্যায়ে বাড়ি যাওয়ার পর বিষয়টি টের পেয়ে পরিবার ও নিজ প্রতিষ্ঠানে জানালে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। বিক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তারা।

জানতে চাইলে পরীক্ষার কেন্দ্র সচিব ও শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল। পরীক্ষার সময় বিষয়টি কারও নজরে আসেনি। পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে মাদরাসা বোর্ডে কথা বলেছি। পরীক্ষার্থীদের ফলাফলে কোনো সমস্যা হবে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান হিমু এ প্রসঙ্গে বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তাই পরীক্ষার ফলাফলে কোনো সমস্যা হবে না। এরপরও ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি করা হয়েছে। সেইসঙ্গে দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে হল সুপার ও চার কক্ষ পরিদর্শককে অব্যাহত দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এমএন/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।