ভাঙা হাতের অস্ত্রোপচারের সময় শিশুর মৃত্যু, পুলিশ হেফাজতে দুই চিকিৎসক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ০৩:১৯ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

কুষ্টিয়ায় এক‌টি বেসরকারি হাসপাতা‌লে অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের পর তাসনিয়া আফরিন (৬) না‌মে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত আটটার দিকে শহরতলীর মোল্লা তেঘরিয়া এলাকায় অবস্থিত একতা প্রাইভেট হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। তাসনিয়া আফরিন কুমারখালী উপজেলার সানপুকুরিয়া গ্রামের তরিকুল ইসলামের মেয়ে।

এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতার চাপে অস্ত্রোপচারের সময় উপ‌স্থিত দুই চি‌কিৎসক‌কে পু‌লি‌শ হেফাজ‌তে‌ নেওয়া হয়েছে। ত‌বে নিহ‌তের প‌রিবা‌রের পক্ষ থে‌কে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গে‌ছে, চার-পাঁচ দিন আগে বাড়ির সিঁড়ি থেকে পড়ে তাসনিয়ার বাম হাত ভেঙে যায়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সোমবার বিকে‌লে প‌রিবা‌রের সদস‌্যরা তাকে কুষ্টিয়া শহরের একতা প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখা‌নে হাতের অস্ত্রোপচারের জন‌্য সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাসনিয়াকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক আবদুল হাদী এবং অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের জন্য তাহেরুল আল আমীন উপস্থিত ছিলেন।

প‌রিবা‌রের অভিযোগ, অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাসনিয়ার মৃত্যু হয়। এ খবর অপারেশন থিয়েটারের বাইরে থাকা স্বজনদের কাছে পৌঁছালে তারা ক্ষুব্ধ হ‌য়ে হাসপাতালে ভাঙচুর চালান। এ সময় স্থানীয় লোকজনও ভাঙচু‌রে অংশ নেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত ১১টা পর্যন্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান করেন। প‌রে অবরুদ্ধ দুই চিকিৎসককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।

ভাঙা হাতের অস্ত্রোপচারের সময় শিশুর মৃত্যু, পুলিশ হেফাজতে দুই চিকিৎসক

চি‌কিৎসক তাহেরুল আল আমীন সাংবাদিকদের বলেন, তাসনিয়ার শারীরিক পরীক্ষা–নিরীক্ষায় সব ঠিক ছিল। জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর সে মৃত্যুবরণ করে। হয়তো হার্ট অ্যাটাকের কারণে মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমাম বলেন, এটা‌কে আমরা হাইপার সেন‌সিটিভ কেস ব‌লে থা‌কি। যেটা সা‌ডেন কা‌র্ডিয়াক অ‌্যারেস্ট। অনেক সময় মেয়াদোত্তীর্ণ বা নিম্নমানের অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। নিহ‌তের প‌রিবা‌র সম্ভবত ময়নাতদন্ত কর‌তে চা‌চ্ছেন না। ত‌বে ময়নাতদন্ত রি‌পোর্ট পে‌লে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানা যা‌বে।

একতা প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদুল ইসলাম বলেন, শিশুটিকে অজ্ঞান (অচেতন করা) করার পরপরই তার মৃত্যু হয়। অ্যানেসথেসিস্ট বেশ কয়েক বছর ধরে সেখানে এসে কাজ করেন। অ্যানেসথেসিয়া কীভাবে প্রয়োগ হয়েছে বা কতটুকু প্রয়োগ হয়েছে, সেটা চিকিৎসকই ভালো বলতে পারবেন। ‌

জান‌তে চাইলে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন এস এম কামাল হোসেন বলেন,‌ এ ঘটনায় তদন্ত ক‌মি‌টি গঠনের প্রক্রিয়া চল‌ছে। কোনো গাফল‌তির প্রমাণ মিল‌লে স‌ঙ্গে স‌ঙ্গে ব‌্যবস্থা নেওয়া হ‌বে। এমন অভিযো‌গে এর আগেও তিন‌টি‌ ক্লি‌নিক বন্ধ ক‌রে দেওয়া হ‌য়ে‌ছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, এখন পর্যন্ত প‌রিবারের পক্ষ থে‌কে কোনো মামলা দেওয়া হয়‌নি। রা‌তেই দুই চিকিৎসককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মরদেহ হাসপাতাল ম‌র্গে র‌য়ে‌ছে। মরদেহের কা‌ছে প‌রিবা‌রের সদস‌্যরা না থাকায় এখনও সুরতহাল রি‌পোর্ট করা সম্ভব হয়‌নি।

আল-মামুন সাগর/এফএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।