বৈরী আবহাওয়ায় উত্তাল কুয়াকাটা
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বিরূপ আবহাওয়া পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর বর্তমানে কিছুটা উত্তাল রয়েছে। সাগরে মাঝারি থেকে বড় আকারের ঢেউ সৃষ্টি হয়ে তীরে আছড়ে পড়ছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর ১২টার পর থেকে উপকূলের বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়, যা বিকেলের দিকে কিছু এলাকায় বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাতাসের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নদ-নদীর পানির উচ্চতা কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, খুলনা, বরিশাল ও পটুয়াখালী অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ফলে এসব অঞ্চলে গাছপালা উপড়ে পড়া, হালকা কাঠামোর ক্ষতি এবং নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের চার সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রাকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে নৌযান চলাচলে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।
সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে না গিয়ে উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করতে এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হবে। প্রয়োজনে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে হোটেলের ভেতরে অবস্থান করছেন এবং নিরাপদে সময় কাটাচ্ছেন। আবার কিছু পর্যটক মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, দমকা হাওয়া ও হালকা বৃষ্টির এই ভিন্নধর্মী পরিবেশ উপভোগ করতে সৈকতে যাচ্ছেন।

কুয়াকাটায় পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটক রবিন তালুকদার বলেন, ‘আমরা মূলত সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত দেখতে এসেছিলাম, কিন্তু আবহাওয়া ভিন্ন রূপ দেখাচ্ছে। তারপরও এই মেঘলা আকাশ আর বৃষ্টির মধ্যে সমুদ্র দেখার অভিজ্ঞতাও কম উপভোগ্য নয়। তবে নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখছি।’
পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী বলেন, ‘উত্তর বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে এই অস্থির আবহাওয়া বিরাজ করছে। এর প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে এবং উপকূলীয় এলাকায় দমকা হাওয়া ও বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সতর্ক সংকেত বা নির্দেশনা জারি করা হবে।’
আসাদুজ্জামান মিরাজ/এসআর/এমএস