টোলকর্মী জাহিদের খুনিরা দুই মাসেও গ্রেফতার হয়নি
ঝালকাঠির গাবখান ব্রিজের টোলকর্মী জাহিদ খুন হওয়ার ২ মাসেও হত্যা মামলার কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা হয়নি। বিচার নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছে নিহত জাহিদের বাবা ফারুক হোসেন এবং তার পরিবার।
কান্না জড়িত কণ্ঠে জাহিদের বাবা ফারুক হোসেন জানান, জাহিদের হত্যার পর প্রায় ২ মাস অতিবাহিত হলেও পুলিশ খুনিদের গ্রেফতার করতে পারেনি। জাহিদের হত্যার পর ঝালকাঠি থানায় দায়েরকৃত হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই গৌতমের সঙ্গে আলাপ করলে আসামিরা পলাতক বলে জানালেও তাদের পরিবারের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ বা হত্যার কোনো আলামত সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
তাছাড়া বর্তমানে প্রযুক্তির মাধ্যমে সামান্য মোবাইল চোর, বিকাশের টাকা চোর ধরে ফেলা হয়। সেখানে খুনিরা তাদের স্ত্রী-পরিবার ও ভাইদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগসহ টাকা পয়সা আদান-প্রদান করলেও পুলিশ বলছে খুনিরা বিভিন্ন স্থানে সরে যাওয়ায় ধরতে পারছে না। আসলে খুনীদের পক্ষে প্রভাবশালী মহল তদবীরও করে, টাকা-পয়সাও দেয়। তাই আমাদের সন্তানকে খুন করলেও পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করে না।
জাহিদ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) গৌতম জানান, জাহিদ হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। তবে খুনিরা ঘটনার পর থেকেই এলাকার বাইরে সটকে পড়েছে।
তিনি আরো বলেন, খুনিরা এক স্থানে বেশিক্ষণ অবস্থান করছে না। ফলে ইতোমধ্যে যশোর, খুলনা, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন স্থানে হানা দিয়ে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
প্রসঙ্গত, গত ১০ মে সন্ধ্যা ৭টায় ঝালকাঠির গাবখান ব্রিজের টোল আদায়কর্মী জাহিদ স্থানীয় ট্রলি মালিক মিজানের গাড়িতে টোলের টাকা চাইলে কথার কাটাকাটির হয়। পরে ওইদিন সন্ধ্যায় মিজান ও মিরাজের নেতৃত্বে টোলঘরের পাশেই জাহিদকে লোহার পাইপ দিয়ে এলোপাথাড়ি পেটালে ঘটনাস্থলে সে জ্ঞান হারায়।
পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে জাহিদকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ও সেখান থেকে চিকিৎসক বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠায়। সেখান থেকে পরের দিন জাহিদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে ৩দিন চিকিৎসার পর তার মৃত্যু হয়।
আতিকুর রহমান/এফএ/এমএস