প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান
আইন না মানা আমাদের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম বলেছেন, সবকিছুর জন্য আইন থাকলেও তা না মানাটাই আমাদের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। সুশৃঙ্খল সমাজ ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে সাংবাদিকদের নিজস্ব এখতিয়ার ও সীমাবদ্ধতার বিষয়ে সচেতন থাকা আবশ্যক।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) কক্সবাজারে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত ‘বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং সাংবাদিকদের অধিকার ও পেশাগত নীতি-নৈতিকতা’ বিষয়ক সেমিনার ও কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিচারপতি আব্দুল হাকিম আরও বলেন, গণমাধ্যম সমাজের আয়না আর সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। তাই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা ও জাতিসত্ত্বা বিনাশী যেকোনো প্রতিবেদন পরিবেশন করা পেশাদারিত্বের পরিপন্থি।
সেমিনারে বক্তারা সংবাদপত্রের ভেতরের নানা সংকটের কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির কারণে দীর্ঘকাল ধরে সাংবাদিকরা তাদের প্রকৃত অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হাতেগোনা কয়েকজন নেতা বিত্তশালী হলেও সিংহভাগ সংবাদকর্মী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই বৃত্ত থেকে বের হয়ে পেশার স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হতে না পারলে অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের বেতন বৈষম্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, প্রতিটি পেশায় শ্রমের বিনিময়ে পারিশ্রমিক থাকলেও অনেক মিডিয়া হাউজ সাংবাদিকদের বেতন দেয় না। জেলা পর্যায়ে চিত্র আরও ভয়াবহ; কোথাও কোথাও উল্টো সংবাদকর্মীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এর ফলে সাংবাদিকরা অনৈতিকতায় জড়িয়ে পড়ছেন, যা গোটা পেশার ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। মিডিয়া হাউজগুলোকে এই দায়বদ্ধতা এড়ানোর সুযোগ নেই।
নিয়োগপত্রের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা সতর্ক করে বলেন, নিয়োগপত্র ছাড়া কাজ করলে ভবিষ্যতে যেকোনো আইনি সমস্যায় সাংবাদিকরা সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হবেন। তাই নিয়োগ ও যোগদানের বিষয়টি নিয়মতান্ত্রিক হওয়া জরুরি।
সেমিনারে প্রেস কাউন্সিল সচিব (উপসচিব) মো. আব্দুস সবুর, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহিদুল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) দেবদূত মজুমদার এবং জেলা তথ্য অফিসার আবদুস সাত্তারসহ স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৪০ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
সায়ীদ আলমগীর/কেএইচকে/জেআইএম