রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী, কুঠিবাড়িতে উৎসবের আমেজ
শুক্রবার (৮ মে) ২৫ বৈশাখ। বাংলা সাহিত্যের নক্ষত্রপুরুষ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মজয়ন্তী। এ উপলক্ষ্যে কবির স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে তিনদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ শিরোনামে শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। তবে এবার বসছে না ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা।
শিলাইদহের রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির কাস্টোডিয়ান মো. আল আমিন বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তিন দিনব্যাপী রবীন্দ্র সংগীত, কবিতা আবৃত্তি, আলোচনা সভা ও মঞ্চ নাটক চলবে আগামী ১০ মে মধ্যরাত পর্যন্ত।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে শিলাইদহের রবীন্দ্র কুঠিবাড়িতে সরেজমিন দেখা যায়, কুঠিবাড়ির সম্মুখে ফাঁকা মাঠে প্রস্তুত মঞ্চ। দেওয়াল ও গাছের গুড়াতে সাদা রঙ লাগানো হয়েছে। কুঠিবাড়ির সামনের সড়কে চলছে আলপনা আঁকার কাজ। কুঠিবাড়ির চত্বরে সাজসাজ রব। ভিতরে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে এসেছেন রবীন্দ্র ভক্তরা।
শিলাইদহ খোরশেদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া খাতুন বলেন, কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানে সাজসজ্জা দেখতে এসেছি। কুঠিবাড়িতে পা রাখলেই অদ্ভুত অনুভূত হয়। মনে হয় এখানকার আকাশে বাতাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি ভেসে বেড়াচ্ছে এখনও।
সিরাজগঞ্জ থেকে এসেছেন শিক্ষার্থী ইসরাইল হোসেন। তিনি কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, আমাদের ওখানেও কবির স্মৃতিবিজড়িত স্থান রয়েছে। তবও শিলাইদহের কুঠিবাড়িটি দেখার অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল। তাই জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এসে দেখছি সাজসাজ রব। এখানকার পরিবেশ খুব সন্দর। দেখলেই মন ভরে যায়।
বাংলা ১২৬৮ সনের ২৫ বৈশাখ কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মগ্রহণ করেন। তার দাদা প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ১৮০৭ সালে এই অঞ্চলে জমিদারি পান। ১৮৯১ সালে বাবার আদেশে জমিদারি দেখাশোনার কাজে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহে আসেন। কবিগুরু ১৯০১ সাল পর্যন্ত শিলাইদহে জমিদারি পরিচালনা করেন। পদ্মা পাড়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে মুগ্ধ কবি একে একে রচনা করেন সোনার তরী, চিত্রা, চৈতালীসহ বিখ্যাত সব কাব্য গ্রন্থ।
আল-মামুন সাগর/এনএইচআর/জেআইএম