কক্সবাজারের শালিক রেস্তোরাঁর জিএমকে ঢাকায় নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ
কক্সবাজারের কলাতলীর আলোচিত শালিক রেস্তোরাঁর মালিক নাসির উদ্দীন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে রেস্তোরাঁর জিএমকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ করা হয়েছে, স্বাধীন নামের রেস্তোরাঁর জিএমকে ব্যবসায়ীক আলাপের কথা বলে কৌশলে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় নিয়ে টানা তিনদিন একটি অন্ধকার কক্ষে বন্দি রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে জোরপূর্বক টাকা ট্রান্সফার করা হয়। এমনকি ভবিষ্যতে ব্ল্যাকমেইলের উদ্দেশ্যে তাকে বিবস্ত্র করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং জোরপূর্বক বিভিন্ন বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।
পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সহযোগিতা নেওয়ার পর তাকে জীবিত ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তারা।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা তুলে ধরেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে বলেও উল্লেখ করেন।
তবে ঘটনার পর থেকে শালিক রেস্তোরাঁর মালিক নাসির উদ্দিন ফোন রিসিভ না করায় অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী ও তার স্বজনরা দাবি করেন, ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় নাসির উদ্দীনের কথিত চতুর্থ স্ত্রীর বাসাকে ‘টর্চার সেল’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সেখানে এর আগেও একাধিক ব্যক্তিকে আটকে রেখে নির্যাতন ও ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ স্বাধীনকে আটকে রেখে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।
অভিযোগ করে বলা হয়, টানা নির্যাতনের কারণে স্বাধীনের শরীরজুড়ে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন তৈরি হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বিমানে তুলে কক্সবাজার পাঠিয়ে দেয় শাকিলের নির্দেশে সাজ্জাদ নামে এক সন্ত্রাসী। দীর্ঘ দু’দশকের বন্ধুত্বের খাতিরে রেস্তোরাঁটি স্থাপন, পরিচালন এবং বর্তমানে জিএম হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ না করতেই তাকে মেরে ফেলতে এমনটি করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আলী বলেন, স্বাধীন নামে একজন ঢাকায় নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে- যা খুবই মর্মান্তিকতার প্রমাণ দেয়। ভিকটিম সদর থানায় মামলা করতে চান। কিন্তু তার অপহরণ বা নির্যাতনের শিকার হওয়ার স্থান ঢাকায়। তিনি একা হেঁটে এয়ারপোর্টে ঢুকছেন সেটার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। তিনি নিজেও বলছেন, ব্যবসায়ীক আলাপের জন্য ঢাকায় যাওয়ার পর তাকে বন্দি করে নির্যাতন করা হয়েছে। এতে কক্সবাজার থেকে অপহরণ করার বিষয়টি আইনে সাপোর্ট করে না। মামলা করতে গেলে যেখানে নিপীড়িত হয়েছেন, সেখানে যেতে হবে।
সায়ীদ আলমগীর/এফএ/জেআইএম