আলু সংরক্ষণের ‘মডেল ঘরে’ চলছে সংসার
সারাদেশের মধ্যে আলু উৎপাদনে অন্যতম শীর্ষ জেলা জয়পুরহাট। সহজে আলু সংরক্ষণের জন্য আলুচাষিদের কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ৫২টি ‘অহিমায়িত আলুর মডেল ঘর’ নির্মাণ করে দেয়। কিন্তু নির্মাণ ত্রুটি ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে এই ঘরগুলো কৃষকদের কোনো কাজে আসছে না। আলু সংরক্ষণের বদলে ঘরগুলোতে এখন চলছে কৃষকের সংসার ও রান্নাবান্না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিটি ঘরের জন্য ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু ঘরগুলো আলু সংরক্ষণের উপযোগী করে বানানো হয়নি। আক্কেলপুর উপজেলার গভরপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম ও সদর উপজেলার পলিকাদোয়া গ্রামের নুর ইসলাম জানান, প্রথমবার এই ঘরে আলু রেখে তাদের চরম লোকসান হয়েছে। টিনের চালে প্রচণ্ড গরম, বৃষ্টির সময় পানি ঢোকা ও ইঁদুরের উপদ্রবে আলু দ্রুত পচে যায়। তাই তারা এখন এই ঘরগুলোকে খড়ি রাখা বা গুদামঘর হিসেবে ব্যবহার করছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, ঘর বরাদ্দের সময় বৈষম্যও করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৪০ জনকে ক্যারেট, ওজন মাপার মেশিনসহ অন্যান্য সরঞ্জাম দেওয়া হলেও ১২ জনকে শুধু ত্রিপল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ না থাকার অজুহাত দেখিয়ে তাদের বাকি সরঞ্জাম দেওয়া হয়নি।

জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রতন কুমার রায় বলেন, বরাদ্দ না থাকায় শেষের ঘরগুলোতে সব সামগ্রী দেওয়া সম্ভব হয়নি। কৃষকরা আলুর জমিতে মাত্রাতিরিক্ত সার ও কীটনাশক দেওয়ায় আলু সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। এছাড়া দাম কম থাকায় অনেকে দ্রুত আলু বিক্রি করে দিচ্ছেন।
মাহফুজ রহমান/এমএন/জেআইএম