ওয়াটার ট্রিটমেন্টের অপেক্ষায় পৌরসভা, পানির অভাবে দিশাহারা বাসিন্দারা
পিরোজপুর পৌরসভার চারপাশে নদী ও খাল থাকলেও সুপেয় পানির তীব্র সংকটে ভুগছে পৌরবাসী। গরমের শুরুতেই এই সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পানির অভাবে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক ভাড়াটিয়া এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। এদিকে কয়েক বছর ধরে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট এবং বরাদ্দের দোহাই দিয়ে দায় এড়িয়ে যাচ্ছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। দ্রুত পানির সমস্যা সমাধান করার দাবি পৌরবাসীর।
পিরোজপুর পৌরসভাটি ১৫০ বছরের পুরোনো এবং প্রথম শ্রেণির হওয়ার পরও বছরের পর বছর ভোগান্তিতে রয়েছে পৌরবাসী। পৌরসভার ৯০ ভাগ রাস্তা ভাঙাচোরা থাকলেও বর্তমানে প্রকট আকার ধারণ করেছে পানির সমস্যা। সঠিকভাবে বিল দেওয়ার পরও পর্যাপ্ত পানি মিলছে না অনেক এলাকায়। সাহেবপাড়া, মন্ডলপাড়া, মাছিমপুর, কুমারখালীসহ অন্যান্য এলাকায় গত একমাস ধরে একেবারেই পানি না পাওয়ার অভিযোগ করেছে পৌরবাসী। পানি না পাওয়ার কারণে কোনো কোনো এলাকা থেকে ভাড়াটিয়ারা বাসা ছেড়ে দিচ্ছে বলে জানা গেছে। কয়েক বছর ধরে পানির সমস্যা থাকলেও গেলো কয়েক মাস ধরে পানির সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এদিকে নদী ও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় পিরোজপুর পৌরসভার একমাত্র শোধনাগারটি চরম সংকটে পড়েছে। এতে পৌরসভার প্রায় ২ লাখ বাসিন্দা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। দিনে দুইবার দুই ঘণ্টা করে পানি সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে তা মিলছে না। তবে সাধারণ মানুষ মনে করছে দুর্নীতির কারণেই পানির সমস্যা এখন বড় আকার ধারণ করেছে।

প্রতিবছর কয়েক কোটি টাকা গ্রাহকের কাছ থেকে পানির বিল উত্তোলন করা হয় একই সঙ্গে প্রতি অর্থবছরে পানির সমস্যা সমাধানে একটি মেইনটেনেন্স খরচ ও বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু তারপরও বছরের পর পর দুর্ভোগ কাটছে না পৌরবাসীর।
পৌরবাসী জানান, কয়েক বছর ধরে পানির সমস্যা থাকলেও গত এক মাস ধরে বেশি দেখা দিয়েছে। সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়েছেন গৃহিণীরা। গৃহস্থালির কাজসহ রান্নার কাজও প্রায় বন্ধ। দোকান থেকে শুকনো খাবার কিনে খেতে হচ্ছে।
পিরোজপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা সুফিয়া বেগম বলেন, পানির সমস্যার কারণে জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে। পানির বিল সময়মতো নিয়ে যাচ্ছে কিন্তু পানি পাচ্ছি না। বাচ্চাকাচ্চা স্কুলে পাঠাইতে পারি না, তারা ঠিকমতো গোসল করতে পারছে না। এলাকায় কোনো পুকুর নাই। রান্নাবান্না করার মতো পানিও নেই। কয়েক বছর ধরে এই সমস্যা। বেশ কয়েক মাস ধরে এটা বেশি দেখা দিয়েছে। পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে বারবার বলা সত্ত্বেও পানির সমস্যা সমাধান করছে না।

পৌর এলাকার বাসিন্দা ও সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থী সাদী মোহাম্মদ হিমেল বলেন, পানি না থাকার কারণে ঠিকমতো কলেজে যেতে পারি না। আমাদের এলাকায় বড় কোনো পুকুর নেই যে সেখানে গিয়ে গোসল করব। জামা কাপড় ধুতে না পারায় অনেক সমস্যা পড়েছি। এই সমস্যা কয়েক মাসের নয় বছরের পর বছর। কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবো সমস্যাটি সমাধান করে ভোগান্তি কমানোর জন্য।
পিরোজপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ধ্রুব লাল দত্ত বণিক বলেন, নদীতে পানি না থাকার কারণে পানযোগ্য পানির সমস্যা প্রকট হয়েছে। ফ্রান্স সরকারের সহায়তায় একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের প্রজেক্ট চালু হওয়ার কথা রয়েছে। বাস্তবায়ন হলে পানি সমস্যা সমাধান হবে।

চরম এই পানির সংকটে পিরোজপুর পৌরবাসীর দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এফএ/এএসএম