আড়াই বছরের শিশুকে নিয়ে দুদিন কারাগারে মা, জামিন শুনানি কাল
লক্ষ্মীপুরে একটি ফৌজদারি মামলায় দুধের শিশুকে নিয়ে ফারহানা আক্তার শিল্পি নামে এক নারী দুইদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যায় আসামির আইনজীবী মহসিন কবির স্বপন বিষয়টি জানান।
এদিকে এ মামলায় বুধবার (১৩ মে) আদালতের জামিন শুনানি রয়েছে বলে জানা গেছে।
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত সদরের পেশকার দেলোয়ার হেসেন বলেন, সিআর ৫৬৫ মামলায় সোমবার (১১ মে) আসামি শিল্পি ও জহির উদ্দিনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এইদিন দুপুরে আদালতের বিচারক শাহ জামাল এ নির্দেশ দেন। পরে আসামিদের আদালতের পুলিশ হাজতে পাঠানো হয়। আসামির সঙ্গে দুধের শিশু কারাগারে নেওয়ার বিষয়টি জানা ছিল না। পরে শুনেছি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী হাসিবুর রহমান বলেন, আগামীকাল (১৩ মে) বুধবার শুনানি রয়েছে। জামিন হবে বলে আশা করছি।
আসমি ফারহানার আইনজীবী মহসিন কবির স্বপন বলেন, ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায় শিল্পিকে মারধর করা হয়। কিন্তু শিল্পির হাতে কোনো রড ছিল না। তিনি কাউকে আঘাতও করেননি। এরপরও বাদী মাহাতাবকে মাথায় গুরুতর আঘাতের অভিযোগে শিল্পিকে বিচারক কারগারে পাঠিয়েছেন। তার সঙ্গে এখন দুধের শিশু সিয়ামও কারাগারে। অথচ মেডিকেল সার্টিফিকেটে আঘাতটিকে সাধারণ ছিল বলে উল্লেখ করে চিকিৎসক। এতে ঘটনাটি জামিনযোগ্য হলেও শিল্পিকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। বুধবার জামিন শুনানি রয়েছে।
বাদীর আইনজীবী জসিম উদ্দিন সুমন বলেন, মামলায় দুই আসামিকে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন। তারা জামিন চাইলে আদালতের বিচারক তাদের আবেদন নামঞ্জুর করেন। নিয়ম রয়েছে ৭ দিন পর তারা ফের জামিন আবেদন করতে পারবেন। বুধবার জামিন শুনানি আছে কি না জানা নেই।
লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার নুর মোহাম্মদ সোহেল বলেন, আড়াই বছরের শিশু সিয়ামকে নিয়ে একটি মামলায় তার মা শিল্পি কারাগারে আছেন। সোমবার বিকেলে তাদেরকে কারাগারে আনা হয়।
এজাহার সূত্র জানা গেছে, মামলার বাদী মাহাতাব উদ্দিন ভূঁইয়া লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপুর এলাকার মৃত ছিদ্দিক উল্যাহ ভূঁইয়ার ছেলে। ১৫ এপ্রিল তার ওপর হামলার অভিযোগ এনে তিনি অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী সদর আদালতে মামলা করেন। এতে প্রতিবেশী শিল্পিসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৫ জনকে আসামি করা হয়। শিল্পি পৌরসভার সাহাপুর এলাকার ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী। মামলায় উল্লেখ করা হয় শিল্পি রড দিয়ে বাদীর মাথার পেছনে আঘাত করে। এতে বাদীর মাথার হাড় ভেঙে মোগজ বের হয়ে যায়। অন্যদিকে এজাহারে গুরুতর আঘাত উল্লেখ করা হলেও লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের দেওয়া মেডিকেল সার্টিফিকেটে (এমসি) আঘাতের ধরণ সিম্পল (সাধারণ) বলে উল্লেখ করা হয়।
কাজল কায়েস/এনএইচআর/এমএস