খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার
পাহাড়ের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন-স্থানীয় প্রশাসন শক্তিশালী করতে হবে
খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক বলেছেন, পাহাড়ের দুর্গম অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। এতে পার্বত্য এলাকার মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে এবং উন্নয়নের সুফল প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে যাবে।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে উপজেলার দুর্গম বাঙাল্যা করুনা কার্বারী পাড়া পরিদর্শনে গিয়ে পাড়াবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আল আমিন, পাড়া কার্বারী, শিক্ষকসহ এলাকায় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
কে এম ওবায়দুল হক বলেন, পার্বত্য এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে বসবাস করছে। শিক্ষা, চিকিৎসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব না। সেনাবাহিনী সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে পাড়ার অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মধ্যে ঢেউটিন ও সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় অসুস্থ ব্যক্তিদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণও বিতরণ করা হয়।
চিকিৎসা নিতে আসা আলোরিকরা চাকমা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা ঘরে বসবাস করছি। আমি গরিব মানুষ, স্বামীও নেই। সেনাবাহিনীর কাছ থেকে ঢেউটিন পেয়ে অনেক উপকার হবে।
বাবুছড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বলেন, আমাদের পাড়ার সবচেয়ে বড় সমস্যা সুপেয় পানির সংকট। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থাও খুব খারাপ। এসব বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বাঙাল্যা করুনা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সঞ্জীব চাকমা বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খুবই পিছিয়ে পড়া। সেনাবাহিনীর দেওয়া শিক্ষা উপকরণ পেয়ে শিক্ষার্থীরা উৎসাহিত হবে এবং পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ বাড়বে।
কার্বারী অরুণ চাকমা সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, আমাদের এই দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনীর সহযোগিতা অনেক উপকারে আসবে। এমন উদ্যোগের জন্য আমরা সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই।
প্রবীর সুমন/এনএইচআর/এমএস