জঙ্গিদের নিরাপদ আস্তানা বরগুনা


প্রকাশিত: ০১:২৮ পিএম, ১৮ জুলাই ২০১৬

বরগুনার নিভৃত পল্লী থেকে প্রশিক্ষণরত অবস্থায় বিভিন্ন সময় আটক শতাধিক জঙ্গি জামিনে রয়েছেন। আবার এদের মধ্যে অনেকে এসব মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়ে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন। প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশের সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনের বিশেষ অভিযানেও কেউ গ্রেফতার হচ্ছেন না। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সচেতন মহল।

সচেতন মহল বলছে, এসব জঙ্গি জামিনে মুক্ত থেকে বাইরে তাদের জঙ্গি তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই আটক জঙ্গিদের জামিনের ব্যাপারে সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জঙ্গি দমনে এখন প্রচলিত আইন প্রয়োগ না করে নতুন আইন করা জরুরি বলেও মনে করেন তারা। সেই সঙ্গে বরগুনায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

Barguna

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি বরগুনা সদর উপজেলার ধুপতী গ্রামের আরাবীয়া এমদাদুল উলুম হাফিজিয়া কওমি মাদরাসা থেকে তিন তালেবান প্রশিক্ষককে গ্রেফতার করে পুলিশ। যেখানে প্রায় ৫০ জন ছাত্র ও অন্যান্য জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল।

এরপর ২০০৪ সালে সদর উপজেলার নিভৃত পল্লী নলটোনা ইউনিয়নের শিয়ালীয়া মাদরাসায় জঙ্গি প্রশিক্ষণের সময় ৩৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসব জঙ্গির অনেকেই ২০০৫ সালে দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলায় জড়িত ছিল বলে প্রতিবেদন আছে। গ্রেফতার হওয়া এসব জঙ্গির অধিকাংশই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। আর অল্প কয়েকজন পরবর্তীতে স্বল্প মেয়াদের শাস্তি ভোগ করেন।

Barguna

এরপর ২০১৩ সালের ১২ আগস্ট বরগুনায় তৃতীয়বারের মত শহরের উপকণ্ঠ খেজুরতলা থেকে বৈঠকরত অবস্থায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসীম আনসারীসহ ৩১ জনকে আটক করে পুলিশ। এই ৩১ জনের মধ্যে মুফতি জসীম আনসারী ছাড়া বাকি সবাই জামিনে।

ভৌগোলিক কারণে বরগুনার যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো খারাপ। বিগত দিনগুলোতে বরগুনায় প্রকাশ্যে জঙ্গিদের তৎপরতা লক্ষ্য করা না গেলেও বিভিন্ন সময় ট্রেনিং সেন্টার আবিষ্কার হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও বরগুনার সচেতন মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে। এছাড়া বরগুনার সচেতন মহল মনে করছে, সরকারের উদাসীনতার ফলে অতীতে গ্রেফতার জঙ্গিরা মুক্তি পেয়ে পেয়েছেন।

Barguna

তাছাড়া ঝালকাঠিতে জেএমবির বোমা হামলায় নিহত সহকারী জজ জগন্নাত পাড়ে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এবং আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসীম আনসারীর বাড়ি বরগুনা হওয়ায় জঙ্গিদের তৎপরতা নিয়েও উদ্বিগ্ন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) বরগুনার সভাপতি মো. আবদুর বর ফকির জাগো নিউজকে বলেন, বরগুনায় জঙ্গিরা আস্তানা গেড়ে এখান থেকেই দেশব্যাপী জঙ্গি তৎপরতা শুরু করে। এর বিভিন্ন নমুনাও আমরা দেখতে পেয়েছি। বরগুনায় বিভিন্ন সময়ে যারা জঙ্গি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে হাতেনাতে গ্রেফতার হয়েছেন, তারা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে জামিনে বেরিয়ে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন।

তিনি বলেন, এ বিষয়গুলো যদি আমরা হালকাভাবে দেখি, তাহলে আমাদের জন্য সুফল বয়ে আনবে না। আমাদের আরো সজাগ থাকতে হবে, সচেতন থাকতে হবে।

আটক জঙ্গিদের জামিনে বের হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে বরগুনার অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আখতারুজ্জামান বাহাদুর জাগো নিউজকে বলেন, আটক জঙ্গিরা যাতে বিচারিক আদালত থেকে জামিনে বের হতে না পারে, সেজন্য আমরা যথেষ্ট চেষ্টা করি। কিন্তু তারা যখন বিচারিক আদালত থেকে জামিনে বের হতে না পারে, তখন উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়ে জামিন নিয়ে আসেন। এ ক্ষেত্রে আমাদের করার কিছু থাকে না।

Barguna

তিনি আরো বলেন, মামলার অভিযোগপত্রে তথ্য-উপাত্ত বেশি থাকলে আসামিদের জামিনে বের হওয়া একটু কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু আটক জঙ্গিদের অভিযোগপত্রে তথ্য-উপাত্তের পরিমাণ বেশি নয়। ফলে উচ্চ আদালতে আইনজীবীরা আসামিদের জামিনের ব্যাপারে মামলার অভিযোগপত্রের ফাঁকফোকর আদালতের নজরে নিয়ে আসেন। ফলে আদালত জঙ্গিদের জামিন দেন।

এ বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক পিপিএম জাগো নিউজকে বলেন, বরগুনা জেলাটি বাংলাদেশের একটি উপকূলীয় জেলা। এ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থার কারণে বিভিন্ন সময় জঙ্গিরা এখানে আশ্রয় নিয়ে থাকে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাগুলোর পরে জঙ্গিদের নির্মূল করতে পুরো জেলায় গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি গোয়েন্দা কমিউনিটি পুলিশ এবং সাধারণ মানুষের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে তা যাচাই করা হচ্ছে।

জঙ্গিদের অবস্থান এবং জঙ্গি তৎপরতার কোনো ধরনের তথ্য কারো কাছে থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে তা তাকে জানানোর অনুরোধ করেছেন পুলিশ সুপার বিজয় বসাক পিপিএম। এ ধরনের তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও জগো নিউজের মাধ্যমে সকলকে অবহিত করেন তিনি।

এসময় ঘরভাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে ভাড়াটিয়াদের সম্পর্কে সকল তথ্য যাচাই-বাছাই করে ঘর মালিকদের ঘরভাড়া দেয়ার অনুরোধ করেন পুলিশ সুপার। এছাড়াও ছেলে-মেয়েদের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সাইফুল ইসলাম মিরাজ/ এমএএস/পিআর/এমএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।